Constitution Bylaws

ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন

 গঠনতন্ত্র

স্মারকলিপি, ধারা ও উপধারা সমূহ


 

মুখবন্ধ

বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি, ফরিদপুর জিলা স্কুল, ১৮৪০ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ‘ইংলিশ সেমিনারি স্কুল’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৮৫১ সালে ব্রিটিশ সরকার স্কুলের জাতীয়করণের মাধ্যমে বর্তমান নামটি প্রতিষ্ঠিত করেন। ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ১১ একর জমির উপরে অবস্থিত সুপ্রাচীন এই রত্নগর্ভা বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি দেশ ও জাতিকে উপহার দিয়েছে অসংখ্য মেধাবী সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তিত্ব যারা তাদের প্রতিভার দ্যুতি ছড়িয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলকে প্রতিনিয়ত আলোকিত করেছেন, করছেন। কালের দীর্ঘ পরিক্রমায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাচভিত্তিক প্রাক্তন ছাত্রদের নেটওয়ার্ক তৈরি হতে থাকে, যা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

“অ্যালামনাই”(Alumni), যার বাংলা দাঁড়ায় প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বলতে বোঝায় যারা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জ্ঞানার্জন করে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং নিজের দায়িত্ববোধ থেকে অর্জিত জ্ঞানকে সমাজ বিনির্মাণের মাধ্যমে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা দেশ-দশের উন্নতি সাধনের জন্য ব্যবহার করছে। ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর ফরিদপুর জিলা স্কুলের প্রায় আড়াইশত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকায় একটি আনুষ্ঠানিক প্রাক্তন ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। এরই মধ্যে সারা বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ ভাইরাসজনিত ভয়াবহ মহামারী বাংলাদেশকেও আক্রান্ত করে এবং যাবতীয় সামাজিক যোগাযোগকে চরমভাবে ব্যাহত করে। তদুপরি স্বল্পসংখ্যক প্রাক্তন ছাত্রদের উদ্যোগে ফরিদপুর জিলা স্কুল প্রাক্তন ছাত্রদের ব্যানারে ফরিদপুরের সর্বস্তরের জনসাধারনের মধ্যে করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণাপত্র প্রদান, মাস্ক ও হ্যান্ড-স্যানিটাইজার বিতরণ, টিকা রেজিস্ট্রেশন সহায়তা কার্যক্রমসহ  নানাবিধ সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে ১২ নভেম্বর ২০২১-এ ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সাধারণ সভায় একটি আহবায়ক কমিটি প্রস্তাব করা হয় এবং অ্যালামনাই এসোসিয়েশন গঠনে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, যদিও দুর্ভাগ্যজনকভাবে নানাবিধ জটিলতায় সংগঠনটির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে ফরিদপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ সম্মেলন “গৌরবময় ১৮৫ বর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী ২০২৫” অনুষ্ঠানে স্কুল প্রাঙ্গণে প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রগণ, শিক্ষকমণ্ডলী এবং ফরিদপুর জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে বিগত ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে “ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন” নামক সংগঠন ঘোষণা করা হয় এবং স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীগণ এই সংগঠনের আওতায় নিজেদেরকে সংগঠিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। একই সময়ে সংগঠনকে নিয়তমতান্ত্রিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে একটি উপদেষ্টা পরিষদ এবং একটি আহবায়ক পরিষদের প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়।

“ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন” তার আহবায়ক পরিষদের ১ম সভায় গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্যে একটি উপ-পরিষদ গঠন করে। “ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন”-এর সাধারণ পরিষদের সভায় গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদের সংশোধনী, মূল গঠনতন্ত্রের বঙ্গানুবাদ, যথাসময়ে সদস্যদের কর্তৃক প্রদত্ত সংশোধনী সমূহ বিবেচনা করিয়ে সর্বসম্মতভাবে এই গঠনতন্ত্র অনুমোদন ও ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর বলে ঘোষণা করছে। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় গৃহীত এই মূদ্রিত গঠনতন্ত্রের একটি অনলাইন সংস্করণ সংগঠনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের জন্যে গৃহীত হলো।

 

প্রথম অধ্যায়

স্মারক লিপি

১. নামঃ

এই সংগঠনের নাম হবে “ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন”

২. রেজিষ্টার্ড কার্যালয়ঃ

সংগঠনের রেজিষ্টার্ড কার্যালয় ফরিদপুর জিলা স্কুল, ফরিদপুর-এ অবস্থিত থাকবে, তবে কাজের সুবিধার্থে একটি কার্যালয় রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত থাকবে। সংগঠনের কার্যনিবাহী পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে রেজিষ্টার্ড কার্যালয় ফরিদপুর জেলার যে কোন স্থানে স্থানান্তরিত হলে এক সপ্তাহের মধ্যে নিবন্ধীকরণ কতৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

৩. ভাষাঃ

নথিপত্রের ভাষা হবে বাংলা। তবে প্রয়োজনে ইংরেজী ব্যবহার করা যাবে।

৪. প্রতীকঃ

এসোসিয়েশনের লোগো একটি আধুনিক, স্বল্পালঙ্কারযুক্ত এবং তাৎপর্যপূর্ণ ডিজাইনে গঠিত। লোগোর কেন্দ্রে সংগঠনের সংক্ষিপ্ত রূপ “FZSAA” বর্ণগুলো চমৎকার জ্যামিতিক সামঞ্জস্যে সংমিশ্রিত। নীল রং-এর প্রকারভেদ ও প্রতীকী অর্থঃ আকাশি নীল- ফরিদপুর জিলা স্কুলের প্রথাগত ড্রেস কোডের নীল শার্টকে প্রতিফলিত করে, যা শান্তি, উদারতা এবং ঐতিহ্য বহন করে। নেভি ব্লু- স্কুলের প্রথাগত ড্রেস কোডের নেভি ব্লু প্যান্টের প্রতীক, যা স্থায়িত্ব, শৃঙ্খলা এবং পেশাদারিত্ব কে প্রকাশ করে। লোগোর বামপাশ ও উপরের অংশ বেষ্টন করে ” করে “FARIDPUR ZILLA SCHOOL ALUMNI ASSOCIATION”  এবং তার নিচে “S” বর্ণের ভেতরে উপরের অংশে EST. 2025 লেখা পরিচ্ছন্ন ফন্টে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

৫. সংগঠনের কার্যএলাকাঃ

প্রাথমিকভাবে ফরিদপুর জেলা। পরবর্তীতে নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে সমগ্র বাংলাদেশ তথা বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যাবে।

৬. সংগঠনের ধরণঃ

এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক, স্বেচছাসেবী সমাজকল্যাণ মূলক সংগঠন। এক বা একাধিক বিষয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমম্বয়ে সমাজ কল্যাণমূলক ও মানব হিতৈষী সংগঠন।

৭. উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যঃ

যে সকল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের জন্যে এই এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা হলো:

৭.১ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাঃ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা ও সংহতি রক্ষা করা এবং ভ্রাতৃসুলভ সম্পর্ক স্থাপন করা। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের তথ্য সম্বলিত ডেটাবেজ প্রস্তুত করা। সম্ভাব্য সকল ব্যাচ জুড়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে একটি শক্তিশালী, সহায়ক সম্প্রদায় তৈরি করা।

৭.২ স্কুলকে সমর্থন করাঃ শিক্ষা, অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ বৃদ্ধিতে স্কুলের সাথে সহযোগিতা করা। স্কুলের মান আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশমালা ও সহায়তা প্রদান করা। বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও নৈতিক সুশিক্ষা, ক্রীড়া, সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক শিক্ষা উন্নয়নে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করা। মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে নিয়মিতভাবে বৃত্তি প্রদান করা।

৭.৩ অ্যালামনাইদের সঙ্গে সম্পৃক্ততাঃ আগ্রহী সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আজীবন সংযোগ স্থাপন, সংগঠনের কার্যকলাপে অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা। অ্যালামনাইদের জন্য সমাবেশ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, প্রদর্শনী ও আমোদ ভ্রমনের আয়োজন করা।

৭.৪ পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করাঃ তরুণ অ্যালামনাইদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং ব্যক্তিগত বিকাশে নির্দেশনা ও পেশাগত সহায়তা প্রদান করা। বয়স্ক অ্যালামনাইদের চিত্ত বিনোদন ও চিকিৎসা সেবা প্রদানে সহায়তা করা। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত অসচ্ছল অ্যালামনাইদের সাহায্য প্রদান করার লক্ষ্যে “অসমর্থ অ্যালামনাইদের চিকিৎসা-সহায়তা তহবিল” গঠন করা।

৭.৫ রাষ্ট্রীয় কাজে সম্পৃক্ততাঃ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মুল্যবোধ সমুন্বত রাখা ও দেশের যে কোন প্রয়োজনে যে কোন সময়ে সর্বোচ্চ দক্ষতা দিয়ে স্বোচ্ছাশ্রমে অংশগ্রহন করা। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা। ধর্ষন-নির্যাতন প্রতিরোধ, মাদক নির্মূল ও দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশ ও জাতির কল্যাণে ভুমিকা রাখা । যুব সমাজকে মাদকের কুফল সম্পর্কে অবহিত করা। পরিবেশ উন্নয়ন, বনায়ন ও বৃক্ষরোপন সহায়তা কর্মসূচী গ্রহণ করা। জনগনের আত্ম কর্মসংস্থানের জন্য মানব সম্পদ ও দক্ষতা উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচী গ্রহন করা।

৭.৬ জনসাধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ততাঃ স্কুল এবং ফরিদপুরের জনমানুষের উপকারে পরিকল্পনা প্রণয়ন, সামাজিক উদ্যোগ এবং দাতব্য কার্যক্রম সংগঠিত করা। সংগঠনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে শিক্ষাসহ সামাজিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করা। রক্তদান কর্মসূচী সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা এবং উদ্ধুদ্ধ করা।

৭.৭ সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততাঃ নির্যাতিত বঞ্চিত অসহায় ব্যাক্তিদের সার্বিক ও আইনী সহায়তা এবং কল্যাণে ভূমিকা রাখা। শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ ও দৈহিক অক্ষম অসহায় অসুস্থ ব্যক্তিদের সহায়তা। সর্বোপরি একটি স্বেচ্ছাসেবী অরাজনৈতিক, উন্নয়নমূলক, সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন হবে যা দারিদ্র জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে শিশু, নারী, ও নিম্ন আয়ের জনগণের মধ্যকার বিচ্যুতি/ব্যবধান কমানো এবং তাদের টেকসই উন্নয়নের জন্য সহায়তা করা ও আর্থসামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা করবে।

৭.৮ অ্যালামনাইদের গুনগত মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখাঃ আলামনাইদের সাংস্কতিক ও মুক্ত চিন্তা বিকাশের জন্য লাইব্রেরী, মিউজিয়াম, কনফারেন্স সেন্টার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, গবেষনাগার, ক্রিড়া ও আপ্যায়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা। নিয়মিত বুলেটিন, সাময়িকী ও বিভিন্ন প্রকাশনা প্রকাশ করা। দরিদ্র প্রতিবন্ধী অ্যালামনাইদের প্রশিক্ষন ও পূর্নবাসনের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান ও এর জন্য একটি পৃথক তহবিল প্রতিষ্ঠা করা।

৭.৯ অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনঃ সংস্থার উদ্দেশ্য সাধনে সহায়ক বিবেচনায় সরকার অথবা অন্য কোন স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন কিংবা সরকারী-বেসরকারী কোন সংস্থার সাথে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে উন্নয়ন ও জনকল্যানমুলক কার্যক্রম পরিচালনা করা। ফরিদপুর জিলা স্কুল সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমুর্তি উন্নত করা।

৭.১০ আর্ত-মানবতার সেবা করাঃ অসহায় দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী, বস্ত্র অথবা আর্থিক সহায়তা প্রদান। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা এবং সভা ও সেমিনার এর মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

দ্বিতীয় অধ্যায়

এসোসিয়েশনের ধারাসমূহ

১. ব্যাখ্যাঃ

এসোসিয়েশনের এ ধারা সমূহে (সে ক্ষেত্রে তার বিষয় ও প্রাসংঙ্গিকতার প্রতিকুল নয়) নিম্নলিখিত শব্দ ও বক্তব্য বলতে পাশে লেখা অর্থ বোঝাবে:

১.১ “এসোসিয়েশন” এবং “সংগঠন”-এর অর্থ ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন।

১.২ “স্কুল” বলতে ফরিদপুর জিলা স্কুলকে বোঝাবে।

১.৩ “গঠনতন্ত্র” অর্থ ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্র।

১.৪ “স্মারকলিপি” অর্থ ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্রের স্মারকলিপি।

১.৫ “ধারা সমূহ” অর্থ অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্রের ধারা সমূহ।

১.৬ “উপধারা সমূহ” গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী গৃহীত উপধারা সমূহ এবং গঠনতন্ত্রে ধারাসমূহ সাপেক্ষে কার্যকর ও বৈধ।

১.৭ “নীতিমালা” অর্থ এসোসিয়েশনের স্মারকলিপি ও ধারা সমূহ অনুযায়ী এসোসিয়েশনের কার্যনিবাহী পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা।

১.৮ “বিধি” অর্থ উপধারা সমূহ অনুযায়ী এসোসিয়েশনের কার্যনিবাহী পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত বিধি সমূহ।

১.৯ “অধ্যায়” অর্থ গঠনতন্ত্রের অধ্যায়।

১.১০ “পত্রিকা” অর্থ লিপিবদ্ধ এবং/বা অনলাইন পদ্ধতি অনুযায়ী প্রকাশিত সংগঠনের পত্রিকা।

১.১১ “সদস্য” বলতে মূলত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন, দাতা, আজীবন ও সাধারণ সদস্য বোঝাবে।

১.১২ “বর্ষ” বলতে এসোসিয়েশনের ধারাসমূহে বর্ণিত এসোসিয়েশনের বর্ষ বোঝাবে।

১.১৩ “কার্যনির্বাহী পরিষদ” অর্থ এসোসিয়েশনের কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত নীতিমালার ভিত্তিতে দৈনন্দিন কার্যাবলী সম্পন্ন করার জন্য গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সৃষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ।

১.১৪ “কেন্দ্রীয় পরিষদ” অর্থ অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের লক্ষ্য বা লক্ষ্যসমূহ পূরণে এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সৃষ্ট এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় পরিষদ।

১.১৫ “সাধারণ পরিষদ” অর্থ সকল সদস্যের সমবায়ে গঠিত এসোসিয়েশনে সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান সংস্থা।

২. সদস্যদের নিবন্ধনঃ

এসোসিয়েশনের সকল সদস্যের নাম, পেশা, এসএএসসি/মেট্রিকুলেশন/এন্ট্রানস্ পাশের বর্ষ ও ঠিকানা সম্বলিত একটি তালিকা নিবন্ধ বই, কম্পিউটারে এবং ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত থাকবে। হালনাগাদ নিবন্ধ বইয়ে/কম্পিউটারে/ওয়েব সাইটে ক্রমিক নং সদস্য নম্বর হিসেবে গণ্য হবে।

৩. সদস্যপদঃ

৩.১ সদস্য পদের যোগ্যতা: আগ্রহী যেকোন প্রাক্তন ছাত্র যিনি ফরিদপুর জিলা স্কুলে কোন এক সময়ে অধ্যয়ন করেছেন, কার্যনিবাহী পরিষদের দ্বারা অনুমোদন লাভ করলে, তিনি সদস্য পদের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন। সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তি এসোসিয়েশনের নীতি ও বিধি সাপেক্ষে এবং সময় সময় গৃহীত উপধারা সমূহ দ্বারা নির্ধারিত পরিষদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হবে।

৩.২ সদস্য হবার নিয়মাবলী ও শ্রেণী বিভাগঃ এই প্রতিষ্ঠানে ছয় ধরণের সদস্য থাকবেন, যথাক্রমে –

৩.২.১ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যঃ

যাদের উদ্যোগে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তারাই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। সাধারণ সদস্যদের ন্যায় তারা বার্ষিক বা আজীবন সদস্যদের ন্যায় এককালীন চাঁদা পরিশোধ করবেন। তাদের ভোটাধিকার এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতা থাকবে।

৩.২.২ সাধারণ সদস্যঃ

সংগঠন কর্তৃক নির্ধারিত আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে ৫০০/- (পাঁচশত) টাকা আবেদন ফি এবং ১০০০/- (এক হাজার) টাকা বাৎসরিক ফি সহ সভাপতি/মহাসচিব বরাবরে জমা দিতে হবে। সংগঠনের ধারা- ৩.১ মোতাবেক সকল সদস্য সাধারণ সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। সাধারণ সদস্যদের ভোটাধিকার এবং সংগঠনের যে কোন বিষয়ে জানার অধিকার থাকবে। তারা সংগঠনের যেকোন পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারবেন।

৩.২.৩ আজীবন সদস্যঃ

সংগঠনের আদর্শ, উদ্দেশ্য এবং গঠনতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল হয়ে ধারা- ৩.১ মোতাবেক যোগ্য কোন সদস্য এককালীন ২৫০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা প্রদান করলে তাকে আজীবন সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা যাবে। তিনি ভোট প্রদান এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার অধিকার লাভ করবেন। তাকে বাৎসরিক চাদা প্রদান করতে হবে না।

৩.২.৪ দাতা সদস্যঃ

কোন সদস্য ১০০০০০/- (এক লক্ষ) বা ততোধিক টাকা প্রদান করলে তিনি আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। তিনি ভোট প্রদান এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার অধিকার লাভ করবেন। তাকে বাৎসরিক চাদা প্রদান করতে হবে না। কোন আজীবন সদস্য ন্যুনতম ৭৫০০০/- (পঁচাত্তর হাজার) টাকা প্রদান করে দাতা সদস্যের তালিকাভুক্ত হতে পারবেন।

৩.২.৫ সম্মানিত সদস্যঃ

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উচ্চতর উৎকর্ষ অর্জনকারী অ্যালামনাই সদস্যগণ যারা মানবতা, সমাজকল্যাণ, শিল্প-সাহিত্য, অর্থনীতি ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন অথবা ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন, তাদের এসোসিয়েশনের সম্মানিত সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা যেতে পারে।  এসোসিয়েশনের বাৎসরিক এবং বিশেষ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে প্রকাশনাসমুহে তাদের তালিকা প্রকাশিত হবে। সম্মানিত সদস্যের নাম ও যোগ্যতা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তার সম্মতিসহ এসোসিয়েশনের কমপক্ষে ৫০ (পঞ্চাশ) জন সদস্যের লিখিত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সভায় উপস্থিত সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট প্রদান করলে তিনি নির্বাচিত হবেন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তিনি সংগঠনের নির্বাচনসমূহে ভোট প্রদান এবং প্রতিদ্বন্দিতা করার অধিকার লাভ করবেন। তাকে বাৎসরিক চাদা প্রদান করতে হবে না।

৩.২.৬ সংশ্লিষ্ট সদস্যঃ

ফরিদপুর জিলা স্কুলের সংগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাসমূহের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাগণ এবং স্কুলের বর্তমান শিক্ষকগণ সংশ্লিষ্ট সদস্য হিসেবে স্বীকৃত হবেন এবং পরস্পর স্বীকৃত সুবিধাদি ভোগ করবেন। সংশ্লিষ্ট সদস্য কোনরূপ চাদা প্রদান করবেন না অথবা ভোটপ্রদান এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন না।

৪. সদস্যদের দায়িত্ব ও অধিকার সমূহঃ

৪.১ বার্ষিক নিয়মিত চাঁদা প্রদান করলে একজন সদস্য সে বছরের সংগঠনের সদস্যপদের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন।

৪.২ প্রতিটি সদস্যের এসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত সকল সভা, বক্তৃতামালা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করার অধিকার থাকবে।

৪.৩ সংশ্লিষ্ট সদস্য ও অন্যান্য পেশার সম্মানিত সদস্য ছাড়া প্রতিটি সদস্যের উপধারা সমূহে বর্ণিত উপায়ে, উপস্থিত থাকলে, এসোসিয়েশনের সাধারণ পরিষদের যে কোন সভায় পেশকৃত সকল প্রস্তাবের উপর ভোট প্রদানের অধিকার থাকবে।

৪.৪ যদি তিনি অন্য সব ভাবে কোন পদ/কাজের জন্য উপযুক্ত হন এবং তার চলতি নির্ধারিত সদস্য পদে চাঁদা দেয়া থাকে তাহলে সকল সাধারণ সদস্য, আজীবন সদস্য ও দাতা সদস্য এসোসিয়েশনের নির্বাহী পদের জন্য সকল নির্বাচনে ভোট প্রদান ও প্রার্থী হবার অধিকারী হবেন।

৪.৫ সংগঠনের ওয়েবসাইট, দাপ্তরিক কম্পিউটার ও রেজিস্ট্রার বইয়ে সকল সদস্যের নাম সদস্য-প্রকৃতি অনুসারে সদস্য-ক্রমিকসহ লিপিবদ্ধ থাকবে।

৪.৬ প্রত্যেক আজীবন সদস্য ও সাধারণ সদস্য পরিচয়পত্র সংগ্রহের অধিকার রাখবেন যা ভোটাধিকারের সময় প্রদর্শন প্রযোজ্য হবে।

৫. সদস্য পদের মেয়াদঃ পরবর্তীতে বর্ণিত বিধি অনুযায়ী, সদস্য পদ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত বা নির্ধারিত বর্ষে চাঁদা পরিশোধ করলে একজন সদস্যের পদ বহাল থাকবে।

৬. সদস্যপদ বাতিলকরণঃ সদস্যপদ স্থগিত/বাতিলের নিয়মাবলীঃ

৬.১ বাৎসরিক চাদা প্রদান না করলে।

৬.২ স্বেচছায় পদত্যাগ করলে।

৬.৩ আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হলে ।

৬.৪ পাগল কিংবা দেউলিয়া সাব্যস্থ হলে ।

৬.৫ সমাজ বিরোধী বা রাষ্ট বিরোধী কোন কাজে অংশ গ্রহণ করলে ।

৬.৬ সংগঠন থেকে বেতন, ভাতা, সম্মানী বা কোন প্রকার আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে ।

৬.৭ মৃত্যুবরণ করলে ।

৬.৮ সদস্যপদ বাতিলকরণঃ (পরবর্তী ধারায় বর্নিত পদ্ধতি অনুযায়ী তদন্তের পর) কোন সদস্যের আচরণ ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের মর্যাদা ও স্বার্থের প্রতি হানিকর অথবা অবমাননাকর বিবেচিত হলে কিংবা কোন সদস্য ইচ্ছাকৃত ও ক্রমাগতভাবে এসোসিয়েশনের বিধানসমূহ মানতে অস্বীকার করলে কার্যনিবাহী পরিষদ কাছে আপিল করার অধিকার রেখে তার সদস্যপদ বাতিল করা যেতে পারে।

৭. অবাঞ্চিত আচরনের জন্য অপসারণঃ (তদন্তের পদ্ধতি)

৭.১ কার্যনিবাহী পরিষদ কিংবা তাদের দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি কর্তৃক যথাযথ তদন্তে কোন সদস্যের আচরণ উপরোক্ত ৬.৮ ধারায় তার সদস্য পদ বাতিলের উপয্ক্তু বিবেচনা করলে কার্যনিবাহী পরিষদ কর্তৃক যে কোন সদস্যের সদস্যপদ বাতিলের অধিকার রয়েছে। তদন্তের সময় পরবর্তীতে সন্নিবিষ্ট অন্ততঃপক্ষে ০২ (দুই) সপ্তাহের নোটিশ প্রদান করে অভিযুক্ত সদস্যকে পত্র মারফত বা উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য নিদিষ্ট সময় ও তারিখ জানাতে হবে। কার্যনিবাহী পরিষদ বহিস্কারযোগ্য সদস্য সম্বন্ধে সকল তথ্য পরিবেশন করবে।

৭.২ এই ধারার ৭.১ উপধারা প্রয়োগের জন্য কার্যনিবাহী পরিষদে প্রস্তাবের পক্ষে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হবে।

৭.৩ যে সদস্যের বিরুদ্ধে আচরণভঙ্গের অভিযোগ কার্যনিবাহী পরিষদ অথবা তাদের কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কোন কমিটির কাছে তদন্তাধীন রয়েছে, তদন্ত সম্পন্ন ও সিদ্ধান্ত ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করতে পারবেন না।

৮. পুনরায় সদস্য পদ লাভের যোগ্যতাঃ

পদত্যাগের কারণে বা চাঁদা না প্রদান করার জন্য কোন সদস্যের সদস্যপদ রহিত হলে তার সদস্য পদ রহিতের তারিখ হতে প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ সহ নতুন আবেদনপত্রের ভিত্তিতে তাকে পুনরায় সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা যাবে।

কোন সদস্যের সদস্যপদ ৬.৮ ধারা অনুযায়ী বাতিল ঘোষিত হলে, সদস্যপদ বাতিলের দু’বছর বা বেশী সময় অতিক্রান্ত হবার পর সত্যায়ন করিয়ে ১০ (দশ) জন নিয়মিত সদস্যের সমর্থনসহ সদস্যপদের জন্য দরখাস্ত প্রদান করলে তাকে আবার সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা যাবে। অথবা এই ধারার অধীনে যে সদস্য পদত্যাগ করেছেন তিনি লিখিত ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করলে এবং তা কার্যনিবাহী পরিষদের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে দু’বছরের আগে তাকে আবার সদস্যপদ প্রদান করা যেতে পারে।

৯. চাঁদাঃ

উপধারা অনুযায়ী প্রতিটি সদস্য উপধারায় সেসময়ের জন্য নির্ধারিত অর্থের চাঁদা সংগঠনের তহবিলে প্রদান করবেন। এ চাঁদা প্রতি বছর সদস্যপদ নবায়নের জন্য প্রদান করতে হবে তবে একসাথে একাধিক বছরেরও চাঁদা পরিশোধ করা যাবে। এ চাঁদা প্রতি বৎসর ১লা জানুয়ারীর আগে অগ্রিম হিসেবে অথবা নতুন সদস্যের জন্য তার সদস্যভূক্তির সময় প্রদান করতে হবে।

১০. সাংগঠনিক কাঠামোঃ

সংগঠনের ব্যবস্থাপনার জন্য সাংগঠনিক কাঠামো হবে চারটি, যথাক্রমে – (১) সাধারণ পরিষদ, (২) কেন্দ্রীয় পরিষদ, (৩) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং (৪) উপদেষ্টা পরিষদ।

১০.১ সাধারণ পরিষদঃ

সংগঠনের সাধারণ সদস্য, আজীবন সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সমন্বয়ে এ পরিষদ গঠিত হবে। এ পরিষদের সদস্য সংখ্যার কোন উর্দ্ধসীমা থাকবে না।

 ১০.২ কেন্দ্রীয় পরিষদঃ

কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সংগঠনের স্মারকলিপির ধারা, উপধারা সমূহ অনুযায়ী সংগঠনের সাধারন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রন ও পরিচালনা করবেন। সাধারন পরিষদ গৃহীত প্রস্তাব সমূহ বাস্তবায়ন করা কেন্দ্রীয় পরিষদের দায়িত্ব। প্রতিবছর কমপক্ষে ০২ (দুই) বার তারা সভা অনুষ্ঠিত করবেন।

যে পদ্ধতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় পরিষদ গঠিত হবেঃ

১০.২.১ সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের প্রতি আস্থাশীল আগ্রহী প্রতিটি ব্যাচ হতে দুইজন এবং যেসব ব্যাচে দুই শিফটে শিক্ষার্থীগণ অধ্যয়ন করেছেন তাদের ক্ষেত্রে প্রতি শিফট থেকে দুইজন করে নির্বাচিত সদস্য কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য মনোনীত হবেন। কোন প্রেক্ষিতে কোন ব্যাচের প্রতিনিধি পরিবর্তিত হলে সেস্থলে কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্যপদও পরিবর্তিত হবে।

১০.২.২ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ পদাধিকারবলে কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য মনোনীত হবেন।

১০.২.৩ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদিত দেশে বা বিদেশে অবস্থিত সংগঠনের শাখা পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকারবলে কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য বিবেচিত হবেন।

১০.২.৪ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে গঠিত বিষয়ভিত্তিক কমিটিসমূহের পরামর্শক, পরিচালক এবং সদস্যবৃন্দ কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য বিবেচিত হবেন এবং তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সংক্রান্ত বিষয়ের উদ্দেশ্য, পদক্ষেপ এবং কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করবেন।

১০.৩ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদঃ

সংগঠনের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাধারন পরিষদ কর্তৃক ভোটের মাধ্যমে অথবা দ্বিবার্ষিক সাধারন সভা/নির্বাচনী সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ০২ (দুই) বছরের জন্য নিম্নোক্ত ৩১ (একত্রিশ) সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হবে। নির্বাহী কমিটির মেয়াদ হবে নির্বাচনের তারিখ হতে ০২ (দুই) বছর। সংগঠনের সাধারণ পরিষদের চাহিদার ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে বা অন্য কোন স্বীকৃত পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন করা হবে।

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দঃ

  • সভাপতি
  • সহ-সভাপতি – ০৩ (তিন) জন
  • মহাসচিব
  • যুগ্ম মহাসচিব -০২ (দুই) জন
  • কোষাধ্যক্ষ
  • সাংগঠনিক সম্পাদক
  • কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক
  • শিক্ষা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক
  • প্রকাশনা ও গ্রন্থাগার সম্পাদক
  • প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক
  • তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক
  • সাংস্কৃতিক সম্পাদক
  • আপ্যায়ন সম্পাদক
  • সমাজকল্যান সম্পাদক
  • দপ্তর সম্পাদক
  • স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক
  • আইন বিষয়ক সম্পাদক
  • আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক
  • ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক
  • কার্যনির্বাহী সদস্য = ০৯ জন
  • মোট = ৩১ জন।
  • পদাধিকারবলে সদস্য = ২জনঃ সদ্যপ্রাক্তন সভাপতি ও সদ্যপ্রাক্তন মহাসচিব।

১০.৪ উপদেষ্টা পরিষদঃ

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ তাদেরকে পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করার জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করবে, যার মেয়াদ হবে কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুরূপ দুই বছর। এ পরিষদের সদস্য থাকবেন ১৫ (পনেরো) বা ততোধিক বিজোড় সংখ্যক, তবে তা এরচেয়ে কম বা ২১ (একুশ)-এর অধিক নয়। উপদেষ্টাগণ প্রতিমেয়াদে একজন নেতা নির্বাচিত করবেন যিনি অথবা তার অনুপস্থিতিতে তার মনোনীত উপদেষ্টা পরিষদের অন্য কোন সদস্য মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উপদেষ্টাগণকে সংগঠনের আজীবন সদস্য হতে হবে এবং সমাজিক ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সুপ্রতিষ্ঠিত ভূমিকা থাকতে হবে। উপদেষ্টা পরিষদের ভূমিকা হবে সংগঠনের উন্নতির জন্য সহায়তা এবং পরামর্শ প্রদান করা। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন পদ্ধতি এবং নির্বাচন কমিশন গঠনে তাদের অনুমোদন আবশ্যক হিসেবে গণ্য করা হবে। উপদেষ্টা পরিষদ পরবর্তী মেয়াদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবেন।

১১. সহযোগিতা

উপদেষ্টা পরিষদ অথবা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের কোনো শূন্য পদের ক্ষেত্রে, স্ব স্ব পরিষদের সভায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের মাধ্যমে নির্বাচিত যেকোনো আজীবন এবং যোগ্যতাসম্পন্ন সদস্য দ্বারা তা পূরণ করা যেতে পারে। যদি প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে নির্বাচন সম্ভব না হয়, তাহলে সভাপতির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

১২. নোটিশ

১২.১ সাধারনভাবে সংগঠনের সকল নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তিসমূহ অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

১২.২ এসোসিয়েশন কর্তৃক যেকোন সদস্যের নিকট কোন বিজ্ঞপ্তি তার প্রদত্ত ব্যক্তিগত ই-মেইলে অথবা রেজিষ্ট্রারে উল্লেখিত তার সর্বশেষ ঠিকানায় পূর্বে মূল্যে প্রদত্ত চিঠি ডাকযোগে পাঠিয়ে কিংবা সেই বিজ্ঞপ্তি এসোসিয়েশন-এর ওয়েবসাইট অথবা খবরের কাগজে প্রকাশ এবং উক্ত বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত খবরের কাগজের কপি উল্লেখিত ঠিকানায় পূর্বে মূল্য প্রদান করে চিঠি হিসেবে ডাকযোগে পাঠিয়ে নোটিশ প্রদান করা যাবে।

১২.৩ কোন নোটিশ বা এই নোটিশ মুদ্রিত খবরের কাগজের কপি ই-মেইল অথবা ডাকযোগে পাঠালে তা যথাযথভাবে পাঠানো হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।

১৩. কার্য বিবরণীর বৈধতাঃ

১৩.১ সাধারণ অধিবেশন, কেন্দ্রীয় পরিষদ বা বিধি ও উপধারার অধীনে গঠিত উপ-পরিষদ বা সংস্থার কার্য বিবরণীতে অসাবধানতাবশতঃ ভ্রান্তির ফলে তা অবৈধ হয়ে শূন্যতা বা সদস্যদের শূণ্য পদে কিংবা সদস্যদের যোগ্যতা বা নির্বাচনে ত্রুটি ঘটবে না।

১৩.২ কেন্দ্রীয় পরিষদ বা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক কোন কাজে নিযুক্ত হলে এসোসিয়েশনের প্রয়োজনে ধারা, বিধি বা উপধারার অধীনে কোন কর্মকর্তা এবং সদস্য বা সদস্যগণ সেকাজ করতে পারবেন।

১৪. আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্টঃ

১৪.১ সংগঠনের লক্ষ্য সমূহ এগিয়ে নেবার স্বার্থে বাংলাদেশের ভিতরে কিংবা বাইরে প্রতিষ্ঠিত জাতীয়, আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক সংগঠন, অথবা সংগঠন সমূহের সাথে পারস্পরিকভাবে সম্মত শর্তে কেন্দ্রীয় পরিষদ কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাবের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট হবার বা করার অধিকার থাকবে।

১৪.২ সংশ্লিষ্ট সংগঠন সমূহের সদস্যবৃন্দ সম্মত সুযোগ সুবিধাদি ভোগ করবেন।

১৪.৩ কেন্দ্রীয় পরিষদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে উভয় পক্ষকে যথাযথ নোটিশ প্রদানের পর এই ধরনের সংশ্লিষ্ট হবার সিদ্ধান্ত বাতিল করা যাবে।

১৫. স্মারকলিপি, ধারা উপ-ধারা সংশোধন, পরিবর্তন ও বাতিল করাঃ

১৫.১ সংগঠনের স্মারকলিপি, ধারা উপধারা সমূহ পরিবর্তনের প্রস্তাব সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভার অন্ততঃপক্ষে ৬ (ছয়) সপ্তাহ আগে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের কাছে পৌঁছাতে হবে। প্রস্তাবিত বার্ষিক সাধারণ সভার অন্ততঃপক্ষে ৪ (চার) সপ্তাহ আগে এসব প্রস্তাব কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্যদের কাছে মতামতের জন্য পাঠাতে হবে। এসব মতামত মহাসচিবের কাছে বার্ষিক সাধারণ সভার ২ (দুই) সপ্তাহ আগে পৌঁছাতে হবে। এ প্রস্তাব ও সদস্যদের মতামত সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভার আগে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরিষদের বার্ষিক সভায় বিবেচিত হবে। কেন্দ্রীয় পরিষদে গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য “মূল প্রস্তাব” ও সদস্যদের মতামত এবং প্রস্তাবের উপর কেন্দ্রীয় পরিষদের মতামত সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ পরিষদে পেশ করবে। সাধারণ পরিষদের সভায় উপস্থিত দুই তৃতীয়াংশ সদস্য যদি এসব সংশোধনীর পক্ষে ভোট প্রদান করেন তবে সেসব গৃহীত বলে গন্য হবে।

১৫.২ সাধারণ পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় পরিষদের সভায় উপস্থিত দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের দ্বারা গৃহীত হলে এ প্রস্তাব অবিলম্বে কার্যকর হবে।

১৬. কেন্দ্র/শাখা/ব্যাচসমূহে নির্বাচনী বিরোধঃ

১৬.১ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ সাধারণভাবে ২ (দুই) বছর পরপর সাধারণ ও আজীবন সদস্যদের প্রত্যক্ষ অথবা গোপন ভোটে নির্বাচিত হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন-এর মাধ্যমে তা পরিচালিত হবে।

১৬.২ কেন্দ্রে, শাখায় বা কোন ব্যাচে নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধ উপস্থিত হলে রায় দেবার জন্য একটি নির্বাচনী ট্রাইবুনালে বর্তমান এবং অব্যবহিত পূর্বতন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সংগে আরও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক মনোনীত ০২ (দুই) জন প্রবীণ এবং ০১ (এক) জন নিরপেক্ষ আইনজ্ঞ অ্যালামনাই।

১৬.৩ যদি ট্রাইবুনালের কোন সদস্য কোনভাবে বিরোধের সাথে জড়িত থাকেন তবে তার স্থান কেন্দ্রীয় পরিষদের মাধ্যমে নির্বাচিত একজন সদস্য দ্বারা পূরণ করা হবে।

১৬.৪ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনঃ

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন প্রতি ০২ (দুই) বছর পরপর অনুষ্ঠিত হবে অন্যথায় মেয়াদ পূর্তির পরবর্তী দিন হতে পূর্বতন নির্বাচন কমিশন দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন এবং ০২ (দুই) মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন সমাপন করে ক্ষমতা হন্তান্তর করবেন।

১৭. বিলুপ্তিঃ

সংগঠনটি সাধারণ পরিষদের সভায় উপস্থিত ৩/৫ অংশ (তিন-পঞ্চমাংশ) সদস্যের স্বাক্ষরযুক্ত সিদ্ধান্তে বিলোপ করা যাবে। ১৮৬০ সালের আইনের ১৬ ও ১৭ ধারা অনুযায়ী, এসোসিয়েশনের অবশিষ্ট সম্পত্তি বা তহবিল সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে না। তা সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর অথবা সমমনা অন্য কোনো নিবন্ধিত অলাভজনক সংস্থায় হস্তান্তর করতে হবে।

 

তৃতীয় অধ্যায়

এসোসিয়েশনের উপধারাসমূহ

১. চাঁদাঃ

১.১.১ সকল সাধারণ সদস্য প্রতি বছর ১০০০ (এক হাজার) টাকা মাত্র চাঁদা প্রদান করবেন। এ চাঁদা প্রতি বছর জানুয়ারী মাসে অগ্রিম হিসেবে অথবা যে সকল অ্যালামনাই বছরের অন্য কোন সময় সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হবেন তার সদস্য পদ অর্জনের সময় তা প্রদান করবেন।

১.১.২ আজীবন সদস্যগণ বার্ষিক চাঁদার পরিবর্তে এককালীন ২৫০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা মাত্র প্রদান করবেন।

১.১.৩ দাতা সদস্যগণ এককালীন ১০০০০০ (এক লক্ষ) বা ততোধিক টাকা প্রদান করবেন। তিনি বার্ষিক চাঁদা প্রদান করবেন না।

২. ব্যাচ প্রতিনিধিবৃন্দঃ

ফরিদপুর জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আদর্শ, উদেশ্য ও গঠনতন্ত্রের উপরে আস্থাশীল স্কুলের যেকোনো ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্রদের নির্বাচিত প্রতিনিধিবৃন্দ সংগঠনের কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। ব্যাচ প্রতিনিধিগণকে সংগঠনের নিয়মিত সদস্য হতে হবে।

২.১ পদ্ধতিঃ প্রত্যক্ষ বা গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত ০২ (দুই) জন প্রতিনিধি সংগঠনের ব্যাচ প্রতিনিধি হিসেবে প্রতি দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। যেসব ব্যাচে দুই শিফট প্রচলিত ছিল তারা প্রতি শিফট থেকে দুজন অর্থাৎ প্রতি ব্যাচ থেকে ০৪ (চার) জন প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের একমাসের মধ্যে প্রতিটি ব্যাচ তাদের নতুন প্রতিনিধি তালিকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেরণে বাধ্য থাকবেন, অন্যথায় পূর্বতন প্রতিনিধিবৃন্দই দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন।

২.২ দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ সংগঠনের কার্ষনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক গৃহীত কার্যাদি বাস্তবায়ন করবেন। সংগঠনের বিষয়ভিত্তিক এবং উপ-পরিষদসমূহে অন্তর্ভুক্তিতে অগ্রাধিকার প্রাপ্ত হবেন। কেন্দ্রীয় পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত সুযোগ ব্যাচ প্রতিনিধিবৃন্দ ভোগ করবেন।

২.৩ সদস্য নিবন্ধন বিষয়ক দায়িত্বঃ ব্যাচ প্রতিনিধিবৃন্দ এসোসিয়েশন দ্বারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে স্ব স্ব ব্যাচের সদস্যগণকে নিবন্ধনে উৎসাহিত করবেন এবং তাদের সদস্য আবেদনপত্রের স্বীকৃতি প্রদান করবেন।

২.৪ প্রতিনিধি পরিবর্তনঃ গঠনতন্ত্রের ৬ ও ৭ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যাচ প্রতিনিধির সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল হলে তিনি পুনরায় সদস্যপদপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ব্যাচ প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তার স্থানে সংশ্লিষ্ট ব্যাচ নতুন প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবেন।

৩. সংগঠনের শাখাঃ

নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ফরিদপুর জেলার বাইরে দেশে বা বিদেশে সংগঠনের শাখা খোলা যাবে। শুধুমাত্র এসোসিয়েশনের স্বীকৃত সদস্যগণই শাখার সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। শাখা পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য বলে বিবেচিত হবেন।

৩.১ শাখা পরিষদ গঠন ও কাঠামোঃ বিভিন্ন জেলায় সংগঠনের শাখা অফিস খুলতে পারবে। একস্থানে বা কাছাকাছি জায়গায় কর্মরত/বসবাসকারী কমপক্ষে ৫০ (পঞ্চাশ) জন সদস্য একটি স্থানীয় শাখা গঠন করতে পারবে। প্রবাসী অ্যালামনাই শাখাসমূহের ক্ষেত্রে এই সদস্য-সংখ্যা শিথিলযোগ্য থকবে তবে তা কখনোই ২৫ (পচিশ) জনের কম নয়। কোন অবস্থায় একই ভৌগলিক জেলায় অথবা বাংলাদেশ ব্যাতিত অন্য কোন দেশে একাধিক শাখা গঠিত হবে না। প্রতিটি জেলা বা প্রবাসী শাখায় ০৭ (সাত) সদস্য বিশিষ্ট একটি শাখা পরিষদ থাকবে। শাখা পরিষদের সদস্যরা হবেন –

  • সভাপতি – ০১ (এক) জন,
  • সহ-সভাপতি – ০১ (এক) জন,
  • সাধারণ সম্পাদক – ০১ (এক) জন,
  • কোষাধ্যক্ষ – ০১ (এক) জন এবং
  • সদস্য – ০৩ (তিন) জন
  • পদাধীকারবলে সদস্যঃ অব্যবহিত প্রাক্তন সভাপতি ও প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক

মোট ০৭ (সাত) জন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ০৯ (নয়) জন।

৩.২ শাখা পরিষদসমূহের দায়িত্ব, কর্তব্য ও সুবিধাঃ শাখা পরিষদ সংগঠনের কার্ষনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক গৃহীত কার্যাদি বাস্তবায়ন করবে। কেন্দ্রীয় পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত সুযোগ শাখা পরিষদ ভোগ করবেন। শাখা পরিষদ তাদের সকল কাজের জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদের নিকট জবাবদিহি করতে হবে। আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শাখাসমূহে স্বায়ত্বশাসিত হবে। তাদের বিধি-বিধানসমূহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুরূপ হবে। তবে, তারা স্থানীয় অবস্থার বিবেচনায় নিজস্ব উপধারা প্রণয়ন করতে পারবেন এবং তা কেন্দ্রীয় পরিষদের অনুমোদনের জন্য পেশ করবেন। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ তার কোন শাখার ঋণ বা দায়ের জন্য দায়ী থাকবে না। একইভাবে, কোন শাখাও কেন্দ্রের ঋণ বা দায়ের জন্য দায়ী থাকবে না।

৩.৩ শাখা সমূহের কার্যক্রম স্থগিতঃ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে কোন সময় যে কোন শাখা পরিষদের কার্যক্রম স্থগিত করা যাবে। এ ব্যাপারে শাখা পরিষদের কোন প্রকার দায়-দায়িত্ব থাকবে না। কার্যনির্বাহী পরিষদ কোন শাখার কার্যক্রম স্থগিত করলে উক্ত শাখা স্থগিতের কারণ উল্লেখ করে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।

৩.৪ কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক শাখা পরিষদ নিয়ন্ত্রণঃ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত কার্যক্রম সমূহ বাস্তবায়নে বরাদ্দকৃত বাজেট অনুযায়ী শাখা পরিষদ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বাধ্য থাকবে।

৩.৫ শাখা পরিষদের নির্বাচনঃ গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শাখার সদস্যদের দ্বারা প্রতি ০২ (দুই) বছর অন্তর শাখার কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচিত হবেন এবং কর্মকর্তা ও শাখার কার্যনির্বাহী পরিষদের নাম নির্বাচনের কার্যবিবরণীসহ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠাতে হবে।

৪. সাধারণ পরিষদ

৪.১ ক্ষমতা-দায়িত্বঃ

৪.১.১ সংগঠনের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রন করবে।

৪.১.২ সংগঠনের বার্ষিক বাজেট অনুমোদন করবে।

৪.১.৩ সংগঠনের নিরীক্ষিত হিসাব অনুমোদন করবে।

৪.১.৪ সংগঠনের গঠনতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে কাজ করবে।

৪.১.৫ সংগঠনের গঠনতন্ত্রের কোন প্রকার সংশোধনের প্রয়োজন হলে ২/৩ (দুই-তৃতীয়াংশ) সদস্যদের অনুমোদনক্রমে তা সংশোধন করবে ।

৪.১.৬ সংগঠনের বিলোপ সাধনের প্রয়োজন দেখা দিলে ৩/৫ (তিন-পঞ্চমাংশ) সদস্যদের অনুমোদনক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে ।

৪.১.৭ সংগঠনের দুর্যোগ মুহুর্তে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে যা চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

৪.১.৮ সংগঠনের আর্থিক নিয়মনীতি ও চাকুরীবিধি অনুমোদন করবে।

৪.১.৯ তলবী সভা আহ্বানপূর্বক কার্যনির্বাহী পরিষদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারবে।

৪.১.১০ সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন ও অনুমোদন করবে।

৪.১.১১ এসব বিধিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই এমন যেকোন বিষয়ে সংগঠনের স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা সাধারণ পরিষদের থাকবে এবং সাধারন সভার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

৪.২ সাধারণ পরিষদের তিন ধরনের সভা হতে পারেঃ

১. বার্ষিক সাধারণ সভা।

২. তলবী সভা।

৩. জরুরী বা বিশেষ সভা।

সাধারণ পরিষদের সভা আহ্বানের পদ্ধতিঃ

৪.২.১ বার্ষিক সাধারণ সভাঃ কেন্দ্রীয় পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে একটি সুবিধাজনক স্থান, তারিখ ও সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

৪.২.২ তলবী সভাঃ কমপক্ষে অর্ধেকাংশ সদস্যের স্বাক্ষরিত তলবী সভা আহ্বানের আলোচ্যসূচী জানিয়ে আবেদন করতে হবে। সভাপতির সংগে পরামর্শক্রমে মহাসচিব সময়, স্থান ও তারিখ স্থির করবেন।

৪.২.৩ জরুরী বা বিশেষ সভা: সভাপতির সহিত পরামর্শক্রমে মহাসচিব আহ্বান করবেন। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মহাসচিব সভা আহ্বান করতে ব্যর্থ হন তবে সভাপতি নিজেই সভা আহবানের অধিকার সংরক্ষণ করেন।

৪.৩ বিজ্ঞপ্তিঃ

সকল সদস্যদের সভার স্থান, তারিখ ও সময় এবং সভার আলোচ্যসূচী জানিয়ে অন্ততঃপক্ষে ৩০ (তিরিশ) দিনের নোটিশ প্রদান করতে হবে। জরুরী অবস্থায় মহাসচিবের ক্ষমতাক্রমে সভাপতির সংগে পরামর্শে আরও অল্প সময়ের নোটিশে সভা আহ্বান করা যেতে পারে, তবে তা কোন অবস্থায় ০৭ (সাত) দিনের কম হতে পারবে না।

৪.৪ কোরামঃ

বার্ষিক সাধারণ সভা, বিশেষ বা জরুরী সভা এবং তলবী সভায় ১/৪ অংশ (এক-চতুর্থাংশ) সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম হবে।

৪.৫ বার্ষিক সাধারণ সভায় যেসব বিষয় আলোচিত হবেঃ

৪.৫.১ প্রয়োজনবোধে (বা, সভাপতির অনুপস্থিতিতে) সভাপতি নির্বাচন।

৪.৫.২ মহাসচিবের পূর্ববর্তী বছরের বার্ষিক রিপোর্ট।

৪.৫.৩ কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট ও অডিটকৃত হিসাব-নিকাশ গ্রহণ।

৪.৫.৪ আগামী বছরের বাজেট বিবেচনা।

৪.৫.৫ অডিটর নিয়োগ।

৪.৫.৬ ব্যাচ বা শাখাসমূহ হতে প্রদত্ত প্রস্তাব সমূহ।

৪.৫.৭ সংগঠনের সদস্যদের দেয়া প্রস্তাব সমূহ।

৪.৫.৮ সভাপতির অনুমতিক্রমে অন্য যে কোন বিষয়।

৪.৬ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভায় সাধারণ নিয়মাবলী:

৪.৬.১ সভাপতির বিশেষ অনুমতি ছাড়া পূর্বে নোটিশ দেয়া ও যথারীতি আলোচ্যসূচীর সংগে বিতরণ করা হয়নি এই ধরণের কোন প্রস্তাব সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভায় পেশ করা যাবে না।

৪.৬.২ বিভিন্ন সদস্যের পেশকৃত প্রস্তাব ব্যাচপ্রতিনিধির মাধ্যমে মহাসচিবের কাছে পৌছাতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাচপ্রতিনিধির কাছে কপি পাঠিয়ে, প্রস্তাব সরাসরি মহাসচিবের কাছে পাঠাতে পারবেন।

৪.৭ সভার কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ নিয়মাবলী:

৪.৭.১ সকল সভার কাযর্ বিবরনী সাধারণ পরিষদের পরবর্তী সাধারণ সভার সভাপতি কর্তৃক শুদ্ধ ও যথার্থ বলে ঘোষিত হবে।

৪.৭.২ সভায় কোন প্রস্তাব গৃহীত বা নাকচ হলে, তা সাধারণ পরিষদ বা সংগঠনের এক-পঞ্চমাংশ সদস্যের স্বাক্ষরসহ পুনঃবিবেচনার জন্য দাবীনামা না পাঠালে ০৬ (ছয়) মাসের মধ্যে বিবেচিত হবে না।

৪.৭.৩ সভায় সভাপতি সভা মূলতবী ঘোষণা করতে পারেন যদি উপস্থিত সদস্যদের অর্ধেকের বেশী মূলতবী চায়। মূলতবী সভায় শুধু অসমাপ্ত আলোচ্যসূচী আলোচিত হবে।

৪.৭.৪ যে সকল বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, তাদের ছাড়া সভায় পেশকৃত প্রস্তাব সমূহ সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। সাধারণভাবে হাত তুলে ভোট গ্রহণ করা হবে। কিন্তু সভাপতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে কিংবা উপস্থিত সদস্যদের এক তৃতীয়াংশ দাবী করলে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

৪.৭.৫ সভার সভাপতি উভয় পক্ষে সমান সংখ্যক ভোট প্রদত্ত হলে কাষ্টিং ভোট প্রদান করবেন।

৪.৭.৬ তলবী ও বিশেষ সভায় যে আলোচ্যসূচীর জন্য সভা আহ্বান করা হয়েছে, তাছাড়া অন্য কোন বিষয় আলোচনা করতে পারবে না।

৪.৭.৭ কোন শূন্যপদ, বেআইনী নিযুক্তি, কোন সদস্যের নির্বাচন বা অসাবধানতাবশত কোন সদস্যকে নোটিশ প্রদানে ভ্রান্তির কারণে সভার কার্যবিবরণী অবৈধ হবে না।

৪.৮ জরুরী অথবা তলবী সভার কার্যক্রমঃ

৪.৮.১ যে আলোচ্য সূচীর জন্য সভা আহ্বান করা হয়েছে, তাছাড়া অন্য কোন বিষয় জরুরী বা তলবী সভায় আলোচনা করা যাবে না।

৪.৮.২ যদি কোন সভা সদস্যদের দাবীর কারনে আহ্বান করা হয় এবং সভার নির্দিষ্ট সময়ের আধঘন্টার মধ্যে কোরাম না হয় তবে সভা বাতিল হবে। কিন্তু জরুরী সভার ক্ষেত্রে সভা মূলতবী থাকবে এবং সভাপতির সংগে পরামর্শক্রমে মহাসচিব পুনরায় সভা আহ্বান করবেন এবং সভার স্থান, তারিখ ও সময় স্থির করা হবে। মূলতবী সভায় কোন কোরামের প্রয়োজন হবেনা।

৫. কেন্দ্রীয় পরিষদ

৫.১ ক্ষমতা ও কর্তব্যঃ কেন্দ্রীয় পরিষদ সংগঠনের স্মারকলিপি ও উপধারা সমূহ অনুযায়ী সংগঠনের সাধারণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করবেন। সাধারণ পরিষদের গৃহীত প্রস্তাব সমূহ বাস্তবায়ন করা কেন্দ্রীয় পরিষদের দায়িত্ব। সাধারণভাবে প্রতি ৬ (ছয়) মাস পরপর সভায় বসবেন।

কেন্দ্রীয় পরিষদের যেসব ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকবেঃ

৫.১.১ সাধারণ পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে এসোসিয়েশনের বিধি বা উপধারা প্রণয়ন, পরিবর্তন বা বাতিল করা।

৫.১.২ সাধারণ পরিষদের সম্মতি সাপেক্ষে সংগঠনের কক্ষ, ভবন ও অন্যান্য সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনের জন্য এবং নথিপত্রসমূহ সংগঠিত ও পরিচালনার জন্য বিধি ও উপধারা সমূহ প্রণয়ন, সংশোধন বা বাতিল করা।

৫.১.৩ পরবর্তী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন ও সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করবেন।

৫.১.৪ বিশেষ কাউন্সিল, কমিটি, উপ-পরিষদ, বোর্ড বা অন্যান্য সংস্থা নিয়োগ করা এবং কেন্দ্রীয় পরিষদের কোন ক্ষমতা তাদের কাছে অর্পণ করা।

৫.১.৫ সভাপতি ও মহাসচিব ছাড়া কর্মকর্তাদের কোন পদ শূন্য হলে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন সদস্যকে কার্যভার গ্রহণ করার দায়িত্ব প্রদান করা।

৫.১.৬ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ যাতে বাজেট বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় করে তা কেন্দ্রীয় পরিষদ তত্ত্বাবধান করবে। যদি কোন বিশেষ কারণে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ তা পরিবর্তন করে তবে তা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভায় অনুমোদন করাতে হবে।

৫.১.৭ যেকোন সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা-জনিত অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৫.১.৮ কেন্দ্রীয় পরিষদ এসব বিধি অনুযাযী প্রত্যক্ষভাবে প্রদত্ত ক্ষমতা সমূহের বাইরেও সংগঠনের জন্য সকল কাজ করার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।

৫.২ কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাঃ

সাধারণভাবে প্রতি ৬ (ছয়) মাসে একবার কেন্দ্রীয় পরিষদের সভা আহ্বান করা হবে। সভাপতির পরামর্শক্রম বা সিদ্ধান্তে সুবিধাজনক স্থান, তারিখ ও সময়ে কেন্দ্রীয় পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় পরিষদের কমপক্ষে ৫০ (পঞ্চাশ) জন সদস্য স্বাক্ষরিত ও লিখিতভাবে কি বিষয় আলোচনার জন্য বিশেষ সভা আহ্বান করা প্রয়োজন জানিয়ে রিকুইজিশন পেশ করলে এর ৪ (চার) সপ্তাহের মধ্যে মহাসচিব সভাপতির পরামর্শক্রমে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের বিশেষ তলবী সভা আহ্বান করবেন।

৫.৩ কেন্দ্রীয় পরিষদের সভার বিজ্ঞপ্তিঃ

সভার স্থান, তারিখ ও সময় এবং আলোচ্যসূচী জানিয়ে সকল সদস্যকে অন্ততঃপক্ষে ০২ (দুই) সপ্তাহের নোটিশ প্রদান করতে হবে। জরুরী অবস্থায় সভাপতির পরামশক্রমে মহাসচিবের সিদ্ধান্তে আরো অল্প নোটিশে সভা আহ্বান করা যাবে, তবে তা কোন ক্ষেত্রে ০৪ (চার) দিনের কম হবে না।

৫.৪ কোরামঃ কেন্দ্রীয় পরিষদের সভার কোরাম হবে এক-তৃতীয়াংশ জন, তাদের মধ্যে অধিকাংশ জন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্যগণের বাইরের ব্যক্তি হতে হবে।

৫.৫ কেন্দ্রীয় পরিষদের বার্ষিক সভার আলোচ্য সূচিঃ বার্ষিক সাধারণ সভার স্থলে এর অব্যবহিত পূর্বে কেন্দ্রীয় পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভাকে “কেন্দ্রীয় পরিষদের সভা” বলে অভিহিত করা হবে এবং সভায় অন্যান্য বিষয়ের সংগে যেসব বিষয় আলোচিত হবে:

৫.৫.১ এসোসিয়েশনের বিগত বছরের কার্যক্রমের রিপোর্ট গ্রহণ, যথা:

৫.৫.২ মহাসচিব-এর রিপোর্ট।

৫.৫.৩ কোষাধ্যক্ষ কর্তৃক পেশকৃত বিগত বছরের অডিটকৃত হিসাব-নিকাশ।

৫.৫.৪ কোষাধ্যক্ষ কর্তৃক পেশকৃত আগামী বছরের বাজেট।

৫.৫.৫ অডিটর নিয়োগের প্রস্তাব বিবেচনা।

৫.৫.৬ আইনজ্ঞ পরামর্শদাতা নিয়োগের প্রস্তাব বিবেচনা।

৫.৫.৭ গঠনতন্ত্রের উপধারাসমূহের প্রস্তাবিত সংশোধনী (যদি থাকে) বিবেচনা।

৫.৫.৮ বার্ষিক সাধারণ সভায় পেশ করার জন্য প্রস্তাবসমূহ বিবেচনা।

৫.৫.৯ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ পূরণের কমপক্ষে ০৩ (তিন) মাস পূর্বে পরবর্তী মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা।

৫.৫.১০ সভাপতির অনুমতিক্রমে অন্য কোন আলোচ্য বিষয়।

৫.৬ কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণভাবে সভার সাধারণ নিয়মাবলী:

৫.৬.১ পূর্বে নোটিশ প্রদান ও যথারীতি বিতরণ ছাড়া, সভাপতির বিশেষ অনুমতি ছাড়া, অন্য কোন প্রস্তাব কেন্দ্রীয় পরিষদের বার্ষিক সভায় আলোচিত হবে না।

৫.৬.২ সদস্যদের দ্বারা পেশকৃত প্রস্তাব সমূহ ব্যাচ প্রতিনিধি বা স্থানীয় শাখার মাধ্যমে মহাসচিবের কাছে পৌছাতে হবে। কিন্তু ব্যাচ প্রতিনিধি বা স্থানীয় শাখায় কপি পাঠিয়ে যে কোন সদস্য তার প্রস্তাব সরাসরি মহাসচিবের কাছে পাঠাতে পারবেন।

৫.৬.৩ সভায় প্রস্তাব পেশ করার নোটিশ মহাসচিবের কাছে কেন্দ্রীয় পরিষদের সভার অন্ততঃ ১ (এক) সপ্তাহ আগে পৌঁছাতে হবে।

৬ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ

৬.১ ক্ষমতা ও দায়িত্বঃ

৬.১.১ সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দৈনন্দিন কার্যাবলী পরিচালনা করা ।

৬.১.২ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী আয় ও ব্যয় করা। দৈনন্দিন খরচ অনুমোদন করা। বাজেট প্রণয়ন এবং অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় পরিষদ সভা এবং পরবর্তীতে সাধারণ সভায় পেশ করা। অনুমোদিত হিসাব নিরীক্ষা ফার্ম/সংশ্লষ্টি নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কর্তৃক বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষা করা। সংগঠনের ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা করা।

৬.১.৩ বার্ষিক সাধারণ সভার অন্ততঃ ১৫ দিন আগে নিয়োগকৃত চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষিত বাৎসরিক আয়-ব্যায়ের অডিট রিপোর্ট সংগঠনের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা।

৬.১.৪ সকল কার্যক্রম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী পরিচালনা করা। সংগঠনের যথাযথ কাজকর্ম এবং সংগঠনের অফিসকক্ষ, সম্পত্তির প্রশাসন ও রক্ষণাবেক্ষণ, এর প্রকাশনাসমূহের সংগঠন ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য বিধি ও নির্দেশ প্রদান।

৬.১.৫ সংগঠনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা এবং নিয়োগকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ করা। সংগঠনের নিয়োগকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করা এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ করা। সংগঠনের জনবল নিয়োগের বিষয়ে চাকুরী বিধিমালা প্রণয়ন ও সাধারণ পরিষদের অনুমোদন গ্রহণ করা।

৬.১.৬ বিশেষ কার্য সম্পাদনে বিষয়ভিত্তিক পরিষদ ও উপ-পরিষদ গঠন করা।

৬.১.৭ সভা করার দিন, তারিখ, সময়, স্থান এবং আলোচ্য বিষয়সূচি নির্ধারণ করা।

৬.১.৮ সংগঠনের সকল হিসাব-নিকাশ, খরচের ভাউচার, বই ও ক্যাশ বই করার ব্যবস্থা করা।

৬.১.৯ সংগঠনের সকল প্রশাসনিক, ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও মুল্যায়ন করা এবং ধারা-৬ অনুযায়ী কোন সদস্যের সদস্যপদ বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৬.১.১০ বিধি ও বিধান সমূহের অধীনের এসকল ক্ষমতা ছাড়াও, সাধারন পরিষদ কর্তৃক ন্যস্ত হলে, অন্যান্য কাজ ও দায়িত্ব পালন করা।

৬.২ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাঃ

৬.২.১ নির্বাচিত হবার ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে প্রথম কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হতে হবে। সাংগঠনিক প্রয়োজনমত সভা অনুষ্ঠান করবে। তবে সাধারণভাবে প্রতিমাসে ১ (একবার) এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

৬.২.২ বিজ্ঞপ্তি:

সভার স্থান, তারিখ ও সময় জানিয়ে সকল সদস্যকে অন্তত ০৭ (সাত) দিনের নোটিশ পাঠাতে হবে। সভার আলোচ্যসূচী নোটিশের সাথে পাঠানো হবে। কোন জরুরী অবস্থায়, সভাপতির সম্মতিক্রমে মহাসচিব আরো কম সময়ের নোটিশে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা আহ্বান করতে পারেন, তবে কমপক্ষে ০৩ (তিন) দিনের চেয়ে কম নয়।

৬.২.৩ সভার কোরাম হবে ১৬ (ষোল) জন অথবা অর্ধেকের চেয়ে বেশি জন, যাদের মধ্যে কমপক্ষে ০৩ (তিন) জন সম্পাদকমণ্ডলীর বাইরে অর্থাৎ কার্যনির্বাহী সদস্য উপস্থিত থাকবেন।

৬.২.৪ মহাসচিব সভাপতির সংগে পরামর্শক্রমে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভার সুবিধাজনক সময় ও তারিখ স্থির করবেন।

৬.৩ সভা সমূহের সাধারণ নিয়মাবলীঃ

৬.৩.১ সভা কার্যবিবরণী শুদ্ধভাবে সংরক্ষিত হবে এবং যথারীতি পরবর্তী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের, কেন্দ্রীয় পরিষদের বা সাধারণ পরিষদের সভায় যথার্থ বলে ঘোষিত হবে।

৬.৩.২ সভার কোন প্রস্তাব গৃহীত বা নাকচ হলে তা ৬ (ছয়) মাস পূর্ণ কিংবা কেন্দ্রীয় পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট উপ-পরিষদের এক-পঞ্চমাংশ সদস্য পুনর্বিবেচনার জন্য লিখিতভাবে দাবী না করলে বিবেচিত হবে না।

৬.৩.৩ বিশেষায়িত সভায় উপস্থিত সদস্যদের অধিকাংশ মুলতবীর পক্ষে থাকলে, প্রয়োজন মনে করলে সভার সভাপতি সভা মুলতবী ঘোষনা করতে পারবেন। মুলতবী সভায় শুধুমাত্র সভার অসমাপ্ত বিষয়াদি বিবেচিত হবে।

৬.৩.৪ বিশেষ ও তলবী সভায় আলোচ্যসূচীর বাইরে অন্যকোন বিষয় আলোচিত হবে না।

৬.৩.৫ যে কোন সদস্যের কাছে মহাসচিব দ্বারা ই-মেইল বা এসএমএস (ক্ষুদেবার্তা) অথবা কোন কর্মচারী দ্বারা ব্যক্তিগত ভাবে কিংবা সার্টিফিকেট অব পোষ্টিং এর মারফত ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো যেতে পারে।

৬.৩.৬ সদস্যদের দাবীতে আহুত সভার সভাপতি কর্তৃক স্থিরকৃত নির্দিষ্ট সময়ের আধঘণ্টার মধ্যে কোরাম না হলে সভা বাতিল হবে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে মুলতবী থাকবে এবং পরবর্তীতে মহাসচিব কর্তৃক সভাপতির পরামর্শক্রমে পুনরায় আহ্বান করা যাবে এবং সে সভায় যে সংখ্যক সদস্যই উপস্থিত থাকেন কোরাম গঠন করবেন ও সভার কাজ চালিয়ে যাবেন।

৭. আয়ঃ

যেসব সূত্র হতে এসোসিয়েশনের আয় বা তহবিল আসবে:

৭.১ সদস্য চাঁদা-বাবদ প্রাপ্ত অর্থ।

৭.২ সরাসরি অথবা শাখা সমূহের মাধ্যমে বিশেষ চাঁদা বা দানের দ্বারা।

৭.৩ এসোসিয়েশনের জার্নাল, পত্রিকা ও অন্যান্য প্রকাশনার মাধ্যমে।

৭.৪ যে সকল ব্যক্তি এসোসিয়েশনকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক তাদের সাহায্য গ্রহনের মাধ্যমে।

৭.৫ কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক স্বীকৃত অন্য কোন উৎস।

৭.৬ এসোসিয়েশন কর্তৃক স্বীকৃত সীল/লোগো ব্যবহার ফি বাবদ।

৮. সংরক্ষিত তহবিলঃ

এসোসিয়েশনের একটি সংরক্ষিত তহবিল থাকবে। প্রতি বছরের উদ্বৃত্ত অর্থের অন্ততঃ শতকরা ৩০ (তিরিশ) ভাগ এ তহবিলে জমা হবে। যথারীতি নোটিশ প্রদান করে আহুত কেন্দ্রীয় পরিষদের সভায় উপস্থিত সদস্যের তিন-চতুর্থাংশের সমর্থিত বিশেষ প্রস্তাবের মাধ্যমে এ তহবিল হতে অর্থ তোলা যাবে।

৯. ব্যয়ঃ

৯.১ এসোসিয়েশনের কার্যক্রম চালানোর জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদ এসোসিয়েশনের তহবিল হতে সকল সাধারণ খরচ এবং প্রয়োজনমত ভাড়া, বেতন ও অন্যান্য খরচ করবেন।

৯.২ তারা এসোসিয়েশনের লক্ষ্যসমূহ এগিয়ে নেয়ার জন্য সম্মেলন অনুষ্ঠান, পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান, শিক্ষার্থীদের পাঠক্রম বহির্ভূত শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়াবলী যেমনঃ খেলাধুলা, সঙ্গীত, আবৃতি, বক্তৃতা, বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডসমূহে সহায়তা এবং অন্যান্য কাজে ব্যয় করার জন্য ক্ষমতা প্রাপ্ত হবেন।

৯.৩ সংরক্ষিত তহবিলের অর্থ কেন্দ্রীয় পরিষদের সভার সম্মতি ব্যতীত ব্যয় করা যাবে না।

১০. ব্যাঙ্ক হিসাব পরিচালনাঃ

এসোসিয়েশনের সদস্যদের সদস্য ফি, চাঁদা, অনুদান এবং অন্যান্য বৈধ আর্থিক কার্যক্রমের অর্থ যথাযথভাবে গ্রহণ ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের যে কোন তফসিলি ব্যাংকে এসোসিয়েশনের নামে একটি সঞ্চয়ী এবং একটি চলতি হিসাব খোলা হবে। ব্যাংক হিসাব দুইটির নাম হবেঃ “FARIDPUR ZILLA SCHOOL ALUMNI ASSOCIATION”. এছাড়াও পুনর্মিলনী বা এধরনের বড় অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রেক্ষিতে খণ্ডকালিন স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসাব খোলা হবে। ব্যাংক হিসাবসমুহ সভাপতি, মহাসচিব এবং কোষাধ্যক্ষ এই তিনজন পদাধিকারীর মধ্যে যেকোনো দুইজনের যৌথ স্বাক্ষরের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ব্যাংক হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম, নীতিমালা, বিধি-বিধান ও প্রয়োজনীয় শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে ব্যাংক হিসাবের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী, স্বাক্ষর প্রদানের পদ্ধতি অথবা হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন, সংশোধন বা পরিবর্ধনের প্রয়োজন হলে তা কেবলমাত্র কার্যনির্বাহী পরিষদের যথাযথভাবে গৃহীত রেজুলেশনের মাধ্যমে করা যাবে।

১০.১ বৈদেশিক সাহায্য/অনুদান বিষয়কঃ সংগঠন বৈদেশিক সাহায্য/অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে ১৯৭৮ সালের ফরেন ডোনেশন অধ্যাদেশের বিধি-বিধান অনুসরণ করবে। এক্ষেত্রে সরকারের যেকোন একটি তফশিলি ব্যাংকে হিসাব পরিচালনা করা হবে।

বিজ্ঞপ্তি: কোন ব্যক্তি সংগঠনের কোষাগার হতে বেতন লাভ করলে, তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অথবা কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য হতে পারবেন না। “বেতন” বলতে যাতায়াত ও অন্যান্য ভাতা কিংবা সম্মানী বোঝাবে না।

১১. কার্যকালের সময়সীমাঃ

১১.১ নির্বাচিত ঘোষণা হবার পর ০২ (দুই) বছর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তা, সদস্য ও কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্যবৃন্দ স্বীয় দায়িত্বে অধিষ্ঠিত থাকবেন। একই নিয়ম ব্যাচ প্রতিনিধি এবং শাখা সমূহের কার্যকরী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

১১.২ কেন্দ্রীয় পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন সদস্য কোন যথাযথ কারণ ছাড়া পরিষদের পরপর তিনটি নিয়মিত সভায় উপস্থিত না থাকলে তার স্বীয় সদস্যপদ হারাতে হবে।

১১.৩ দুই বছরের মেয়াদান্তে নির্বাচন কমিশন গঠিত না হলে অব্যবহিত পূর্বতন নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের দায়িত্ব পাবেন, এতে কার্যনির্বাহী পরিষদ, কেন্দ্রীয় পরিষদ বা সাধারণ সভার অনুমোদন প্রয়োজন হবে না এবং ০৩ (তিন) মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।

১১.৪ নির্বাচনের দিন থেকে কার্যকাল ০২ (দুই) বছরের পর নতুন নির্বাচন বা ক্ষমতা হস্তান্তর বিলম্বিত হলে এসোসিয়েশনের নিয়মিত রুটিন কাজ ছাড়া কার্যনির্বাহী পরিষদ, কেন্দ্রীয় পরিষদ বা সাধারণ সভায় সকল কার্যক্রমের ক্ষমতা রহিত হবে।

১২. প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ

১২.১ সভাপতিঃ

১২.১.১ সংগঠনের সভাপতি সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

১২.১.২ সাধারণ পরিষদ, কেন্দ্রীয় পরিষদ ও কার্যনির্বাহী পরিষদ সভাসমূহে সভাপতিত্ব করবেন।

১২.১.৩ কোন সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি সমান সংখ্যক ভোট পড়ে তবে কাস্টিং ভোট প্রদান করে সমস্যার মিমাংসা করবেন।

১২.১.৪ সংগঠনের খরচের অনুমোদন দিবেন ৬.১.২ নম্বর উপধারা অনুসরণ করে।

১২.১.৫ তিনি সকল বিভাগীয় কর্মকর্তাগণের কাজে তদারকি, পরামর্শ ও উৎসাহ প্রদান করবেন এবং যে কোন সভা/সিম্পোজিয়াম/সেমিনারে সংগঠনের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনি সংগঠনের পক্ষে যেকোন অতিথিকে অভ্যর্থনা ও সাক্ষাৎকার প্রদান করবেন।

১২.১.৬ কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন কর্মকর্তা বা সদস্য পরপর তিনটি কার্যনির্বাহী সভায় অগ্রহণযোগ্য কারনে অনুপস্থিত থাকলে, দায়িত্বপালনে অপারগতা প্রকাশ করলে বা সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে, সভাপতি কার্যনির্বাহী পরিষদের উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সভ্যগনের অনুমোদনসাপেক্ষে তার পদরহিতকরন ও সেস্থানে কেন্দ্রীয় পরিষদ থেকে কোন যোগ্য সদস্যকে নিয়োগ প্রদান করতে পারবেন।

১২.১.৭ তিনি বিল পাশ করবেন ও বিলের অর্থ প্রদান করবেন এবং চেক সই করবেন, মহাসচিবের অথবা কোষাধ্যক্ষের সাথে যুগ্মভাবে।

১২.২ সহ-সভাপতিঃ

তিনি সভাপতির সকল কাজে সার্বিক সহযোগিতা করবেন এবং তিনি নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। সভাপতির অবর্তমানে জ্যেষ্ঠতার ক্রমে সহ-সভাপতি সভাপতির অনুমতিক্রমে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

১২.৩ মহাসচিবঃ

১২.৩.১ সংগঠনের নির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

১২.৩.২ সংগঠনের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

১২.৩.৩ সংগঠনের পক্ষে চিঠিপত্র আদান প্রদান করবেন, সংগঠনের পক্ষে সরকারি আধা-সরকারি ও দাতা সংগঠন সমুহের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবেন।

১২.৩.৪ কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাব রক্ষণাবেক্ষন করবেন বিল পাশ করবেন  চেক সই করবেন, সভাপতি অথবা কোষাধ্যক্ষের সাথে যুগ্মভাবে ।

১২.৩.৫ বার্ষিক সাধারণ সভায় সংগঠনের কাজের প্রতিবেদন ও নিরীক্ষিত হিসাব পেশ করবেন।

১২.৩.৬ বাৎসরিক বাজেট প্রণয়ন এবং সাধারণ সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবেন।

১২.৩.৭ কার্যনির্বাহী ও কেন্দ্রীয় পরিষদ কর্তৃক গঠিত বিভিন্ন পরিষদের কাজের তদারকি করবেন, তিনি সকল কমিটির পদাধিকার বলে সদস্য থাকবেন।

১২.৩.৮ তিনি সভা সম্মেলন, বক্তৃতামালা ও প্রচারমূলক কার্যক্রম আহ্বান, ব্যবস্থাপন ও সংগঠিত করবেন। সভাপতির সাথে পরামর্শক্রমে সভার তারিখ, সময়, স্থান ও আলোচ্যসূচী নির্ধারণপূর্বক সভার নোটিশ প্রদান করবেন।

১২.৩.৯ সংগঠনের সকল সম্পদের দেখাশুনা ও প্রয়োজনে সংশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করবেন। তিনি কোন বিষয় সংগঠনের স্বার্থে প্রয়োজন বিবেচনা করলে তা কার্যনির্বাহী পরিষদের কাছে পরামর্শ ও সিদ্ধান্তের জন্য পেশ করবেন।

১২.৪ যুগ্ম মহাসচিবঃ

মহাসচিবের সকল কাজে সহযোগিতা করবেন এবং মহাসচিবের অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠতার ক্রমে যুগ্ম মহাসচিব মহাসচিবের সকল কাজ পরিচালনা করবেন।

১২.৫ কোষাধ্যক্ষঃ

১২.৫.১ তিনি সংগঠনের সকল অর্থ গ্রহণ করবেন এবং সংগঠনের নামে কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত ব্যাংক বা ব্যাংক সমূহে জমা দিবেন এবং সংগঠনের ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা করবেন।

১২.৫.২ তিনি সকল ধরনের অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকবেন এবং সে সংক্রান্ত চিঠিপত্র লিখবেন।

১২.৫.৩ তিনি সভাপতি ও মহাসচিব কর্তৃক অনুমোদিত এবং কেবলমাত্র তাদের লিখিত নির্দেশে বিল সমূহের প্রদানের ব্যবস্থা করবেন।

১২.৫.৪ তার সভাপতি ও/অথবা মহাসচিবের অর্থ প্রদানের নির্দেশের কোন ভ্রান্তি কিংবা অসামঞ্জস্য তুলে ধরে সে নির্দেশ তার মতামতের জন্য পুনরায় প্রেরণের অধিকার রয়েছে। এরপরও মতানৈক্য বজায় থাকলে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদে পেশ করা হবে।

১২.৫.৫ তিনি সংগঠনের হিসেব-নিকেশের বই হালনাগাদ রাখার দায়িত্বে থাকবেন। তিনি কার্যনির্বাহী পরিষদের নিকট পেশ করার জন্য বিভিন্ন সময় হিসেবের বিবরণী প্রস্তুত করবেন।

১২.৫.৬ তিনি সভাপতি ও মহাসচিবের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বিল পাশ করবেন ও বিলের অর্থ প্রদান করবেন এবং চেক সই করবেন, সভাপতি অথবা মহাসচিবের সাথে যুগ্মভাবে।

১২.৫.৭ তিনি সংগঠনের আর্থিক অবস্থা বর্ননা করে বার্ষিক হিসেব-নিকেশেরও ব্যালেন্সশীট প্রস্তুত করবেন, তা কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক মনোনীত অডিটর দ্বারা অডিট করাবেন, অডিট রিপোর্ট কার্যনির্বাহী পরিষদের নিকট গ্রহণ করার জন্য উপস্থাপন করবেন এবং গৃহীত হলে পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় পরিষদ ও সাধারন পরিষদের বার্ষিক সভায় পেশ করবেন।

১২.৬ সাংগঠনিক সম্পাদকঃ

১২.৬.১ নিয়মিতভাবে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি পরিচালনা করবেন।

১২.৬.২ সকল সদস্যগনের মধ্যে ঐক্যতা বা একত্রিকরনের বা একতাবদ্ধ থাকার লক্ষ্যে কাজ করবেন। ১২.৬.৩ নির্ভূল সদস্য-তালিকা নিবন্ধীকরন, নিয়মিতকরণ ও দপ্তর সম্পাদকের মাধ্যমে রক্ষা করবেন।

১২.৬.৪ কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক আহবানকৃত কেন্দ্রীয় পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠানসমূহ সংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা।

১২.৬.৫ ব্যাচ ও শাখা সংগঠনসমূহ গঠনে সহায়তা প্রদান করা।

১২.৬.৬ সংগঠনের সদস্যগনের জন্যে পিকনিক বা ভ্রমণ আয়োজন করবেন। সদস্যগণের জন্য পর্যটন পরিকল্পনা প্রস্তুতকরণ, দর্শনার্থীদের তথ্য, প্রচারমূলক উপকরণ এবং প্রদর্শনী তৈরি, বাজেট পরিচালনা, প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের জন্য দায়ী থাকবেন।

১২.৭ কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদকঃ

১২.৭.১ অ্যালামনাই সদস্যদের বেকারত্ব বিমোচনে কার্যকর সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করবেন। সরকারী, বেসরকারি কর্মক্ষেত্র বা ব্যাংকসমূহে চাকুরীর প্রস্তুতিমূলক কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

১২.৭.২ অ্যালামনাই সদস্যদের পেশাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিতভিত্তিতে বিভিন্ন পেশাগত ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষন কর্মসূচি পরিচালনা এবং বিদেশী ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করবেন।

১২.৭.৩ সংগঠনের ওয়েবসাইটে চাকুরী বা ব্যাবসাক্ষেত্রে সম্ভাব্য সুযোগসমুহের তথ্য বুলেটিন আকারে প্রচারের ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন।

১২.৭.৪ তরুন সদস্যগণের মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে ভর্তিপরীক্ষা বিষয়ক সেমিনার, কাউন্সিলিং বা প্রয়োজনে কোচিং কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করবেন।

১২.৮ শিক্ষা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদকঃ

১২.৮.১ স্কুলে শিক্ষার মানোন্নয়নে সম্ভাব্য সকল ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করবেন এবং সেসব বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনে সংগঠনকে উদ্বুদ্ধ করবেন।

১২.৮.২ স্কুলে অধ্যয়নরত মেধাবী এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নিয়মিতভাবে নানাবিধ বৃত্তিপ্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। এসব বৃত্তিপ্রদান প্রক্রিয়াসমূহ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং স্কুলের বর্তমান কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গঠিত পরিচালনা কমিটিতে শিক্ষা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদাধিকারবলে একজন সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।

১২.৮.৩ অ্যালামনাই সদস্যগনের শিক্ষা সহায়তা প্রদানে নীতিমালা ও উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। ।

১২.৮.৪ সমাজে শিক্ষা বিস্তারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আল্যামনাই ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা ইত্যাদি অনুষ্ঠানসমূহ আয়োজন করবেন।

১২.৯ প্রকাশনা ও গ্রন্থাগার সম্পাদকঃ

১২.৯.১ তিনি সংগঠনের বার্ষিক স্মরণিকা, নিয়মিত সাময়িকী, নিউজলেটার ও স্মারকগ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন।

১২.৯.২ তিনি সংগঠনের ভৌত ও ডিজিটাল গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, উন্নয়ন ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন।

১২.৯.৩ ফরিদপুর জিলা স্কুলের ঐতিহাসিক দলিল, শতবর্ষী নথি, প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্মৃতিকথা এবং এসোসিয়েশনের ‘ইতিবৃত্ত’ ও আর্কাইভ নিরাপদে সংরক্ষণ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

১২.৯.৪ তরুণ অ্যালামনাই ও স্কুলের বর্তমান শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ ও মুক্তচিন্তার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য নিয়মিত সাহিত্য সংকলন ও বিশেষ প্রকাশনা বের করার উদ্যোগ নেবেন।

১২.৯.৫ অ্যালামনাই সদস্যদের রচিত সাহিত্য, গবেষণা বা উল্লেখযোগ্য বইসমূহ সংগঠনের ই-লাইব্রেরি ও ওয়েবসাইটে প্রদর্শন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবেন।

১২.৯.৬ সংগঠনের ওয়েবসাইট, ডিজিটাল আর্কাইভ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশের জন্য সংগঠনের উদ্দেশ্য, ঐতিহ্য ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মানসম্মত ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন।

১২.৯.৭ প্রকাশনা সংক্রান্ত কাজের জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে একটি নিরপেক্ষ ‘সম্পাদনা পরিষদ’ বা ‘প্রকাশনা উপকমিটি’ গঠনের প্রস্তাব জমা দেবেন এবং তার সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবেন।

১২.১০ প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদকঃ

১২.১০.১ সংগঠনের বিবৃতিসমূহ চূড়ান্তকরণের পর প্রচার মাধ্যমসমূহে প্রচার নিশ্চিত করবেন।

১২.১০.২ সংগঠনের সকল ধরনের প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। প্রতিবেদন এবং প্রেস রিলিজ লেখা  এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবেন।

১২.১০.৩ বিভিন্ন সংস্থা, গণমাধ্যম ও ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং ভাবধারা বিনিময় করবেন।

১২.১১ তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদকঃ

১২.১১.১ তিনি সদস্যদের পূর্ণ প্রোফাইল সহ প্রাক্তন ছাত্র সদস্যদের ডাটাবেস প্রস্তুত করার এবং এটি রক্ষণাবেক্ষণ এবং আপডেট করার জন্য দায়ী থাকবেন।

১২.১১.২ অ্যালামনাই এসোসিয়েশন-এর জন্য ডিজিটাল যোগাযোগ কৌশলগুলির উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন তত্ত্বাবধানের জন্য দায়ীত্ব পালন করবেন। এই ভূমিকার মধ্যে রয়েছে:

১২.১১.২.১ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওয়েবসাইট এবং ইমেল প্রচারণার মতো ডিজিটাল যোগাযোগ চ্যানেলগুলি পরিচালনা করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলি যোগাযোগের জন্য কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিশ্চিত করা।

১২.১১.২.২ অ্যালামনাই এসোসিয়েশন-এর ওয়েবসাইট তত্ত্বাবধান করা, এটি যুগোপযোগী করা, ব্যবহারকারী-বান্ধব কিনা তা নিশ্চিত করা।

১২.১১.২.৩ সমস্ত যোগাযোগ চ্যানেলে সামঞ্জস্যপূর্ণ বার্তাপ্রেরণ নিশ্চিত করার জন্য অন্যান্য বিভাগ বা সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধন করা।

১২.১২ সাংস্কৃতিক সম্পাদকঃ

১২.১২.১ বিভিন্ন জাতীয় দিবসসমূহ উদযাপনে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

১২.১২.২ সংগঠনের সদস্যদের জন্য সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করবেন। বার্ষিক সাধারণ সভাকে আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত করতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবেন।

১২.১২.৩ স্কুলের বর্তমান শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক মনন গঠনে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যকর ভুমিকা রাখবেন। এ উদ্দেশ্যে বছরের বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ কর্মসূচী যেমন – সঙ্গীত, আবৃতি, বক্তৃতা, বিতর্ক, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং অনুষ্ঠানসমূহ আয়োজনে এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সক্রিয় ভুমিকা পালন করবেন।

১২.১৩ আপ্যায়ন সম্পাদকঃ

১২.১৩.১ কার্যনির্বাহী পরিষদের গৃহীত বিবিধ অনুষ্ঠানের আপ্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

১২.১৩.২ তিনি আপ্যায়ন অনুষ্ঠান ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা, আর্থিক রেকর্ড বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের জন্য দায়ী থাকবেন।

১২.১৪ সমাজ কল্যান সম্পাদকঃ

১২.১৪.১ অসচ্ছল অ্যালামনাই সদস্যগণকে সহায়তায় উদ্যোগ গ্রহন করবেন।

১২.১৪.২ সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন।

১২.১৪.৩ জাতীয় দূর্যোগময় পরিস্থিতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করবেন।

১২.১৪.৪ পদাধিকারবলে অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের পক্ষে ফরিদপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার বৃত্তিপ্রদান কার্যক্রম পরিচালনা বোর্ডের একজন সদস্য থাকবেন।

১২.১৪.৫ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তার লক্ষ্যে অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি মানবিক সহায়তা তহবিল গঠন করবেন।

১২.১৫ দপ্তর সম্পাদকঃ

১২.১৫.১ সংগঠনের দপ্তর বা দপ্তরসমূহের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

১২.১৫.২ তিনি প্রশাসনিক ও অফিশিয়াল নথি/রেজিস্টার সংরক্ষণ করবেন।

১২.১৫.৩ সকল সদস্যগণের তালিকা অফিশিয়াল রেজিস্টার বই এবং কম্পিউটারে সংরক্ষণ করবেন।

১২.১৫.৪ সংগঠনের দপ্তর বা দপ্তরসমূহের সমূদয় সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ, বেতনভূক্ত কর্মচারী নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব পালন করবেন।

১২.১৫.৫ সাংগঠনিক সভাসমুহের কার্যপ্রণালীর বর্ণনা লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করবেন।

১২.১৬ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকঃ

১২.১৬.১ অ্যালামনাই সদস্যগণ ও স্কুলের বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ এবং সম্ভাব্য সহায়তা প্রদান করবেন।

১২.১৬.২ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত আর্থিকভাবে অসচ্ছল অ্যালামনাই সদস্যগণ ও স্কুলের বর্তমান শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য বিত্তবান আলামনাই সদস্যগণের সম্পৃক্ততায় একটি স্বাস্থ্য-সহায়তা তহবিল গঠন করবেন।

১২.১৬.৩ নিয়মিত ভিত্তিতে আলামনাই সদস্যগণ ও স্কুলের বর্তমান শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য-পরিক্ষামুলক মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ক্যাম্পের আয়োজন করবেন।

১২.১৬.৪ অ্যালামনাই সদস্যগণকে আর্ত-মানবতার সেবায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানের মত মহৎ কাজে উদ্বুদ্ধ করবেন এবং এসংক্রান্ত বিষয়ে সাংগঠনের পক্ষে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

১২.১৬.৫ সংগঠনের ওয়েবসাইটে স্বাস্থ্য-সহায়তামুলক প্রতিবেদন প্রচারের উদ্যোগ গ্রহন করবেন।

১২.১৭ আইন বিষয়ক সম্পাদকঃ

১২.১৭.১ সাংগঠনিক কার্যক্রমে যখনই কোনও ভুল বোঝাবুঝি দেখা দেয় এবং যখনই কোনও আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হয়, তখনই সংগঠনের সাথে সম্পর্কিত আইনি সমস্যা, এর গঠনতন্ত্র সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন।

১২.১৭.২ এসোসিয়েশন এবং স্কুল সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক আইনগত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহন করবেন।

১২.১৮ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক:

১২.১৮.১ বহিঃবিশ্বে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত অ্যালামনাই ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, ভাবধারা বিনিময় ও তথ্যাদি আহরন ও সংরক্ষণ করবেন।

১২.১৮.২ আগ্রহী অ্যালামনাইগনের জন্য বহিঃবিশ্বে উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান এর সুযোগ সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করবেন এবং সম্ভাব্য পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করবেন।

১২.১৮.৩ বহিঃবিশ্বে বিভিন্ন দেশে সংগঠনের শাখা প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ গ্রহন করবেন।

১২.১৯ ক্রীড়া সম্পাদকঃ

১২.১৯.১ সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে খেলাধুলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ইত্যাদির আয়োজন করবেন।

১২.১৯.২ স্কুলের বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতা আয়োজনে এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সক্রিয় ভুমিকা পালন করবেন।

১২.১৯.৩ সম্ভাবনাময় কৃতি ক্রীড়াবিদ শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এসোসিয়েশনের মাধ্যমে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করবেন।

১২.২০ কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দঃ

১২.২০.১ সভায় উপস্থিত থাকবেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মতামত বা প্রয়োজনে ভোট প্রদান করবেন।

১২.২০.২ কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় কোরাম পূর্ণ করার জন্য কমপক্ষে ০৩ (তিন) জন কার্যনির্বাহী সদস্যের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক বিবেচিত হবে।

১৩. উপদেষ্টা পরিষদঃ 

ক্ষমতা ও দায়িত্ব:

১৩.১ উপদেষ্টাগণের ভূমিকা হবে অভিভাবকের ন্যায় সংগঠনের উন্নতির জন্য সহায়তা এবং পরামর্শ প্রদান করা।

১৩.২ উপদেষ্টাগণ এবং বিশেষভাবে উপদেষ্টা পরিষদের নির্বাচিত মুখপাত্র সংগঠনের যেকোন পর্যায়ের সভা বা সম্মেলনে বিশেষ সম্মানজনক আসন পাবেন।

১৩.৩ নির্বাচিত মুখপাত্র প্রয়োজনমত উপদেষ্টা পরিষদের সভা আয়োজন করবেন, তবে প্রতিবছরে কমপক্ষে একটি সভা আয়োজিত হতে হবে।

১৩.৪ উপদেষ্টা পরিষদ পরবর্তী মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবেন।

১৩.৫ উপদেষ্টা পরিষদ কেন্দ্রীয় পরিষদ কর্তৃক পরবর্তী মেয়াদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যগণ অগ্রাধিকারী হিসেবে গন্য হবেন। কোন উপদেষ্টা নিজে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলে কমিশন গঠনের পূর্বে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যপদ ত্যাগ করতে বাধ্য থাকবেন।

১৪. বিষয়ভিত্তিক পরিষদঃ

কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক কার্যাবলী, প্রকল্প ইত্যাদি তদারকির জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদের যেকোনো সদস্যের পরিচালনায় বিষয়ভিত্তিক কমিটি গঠনের ক্ষমতা থাকবে। এসোসিয়েশন যেকোনো নিয়মিত সদস্যকে যেকোনো বিষয়ভিত্তিক কমিটি গঠনে সংযুক্ত করা যেতে পারে। এসোসিয়েশনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য দেশের বিভাগীয় বা আন্তর্জাতিক বিষয়ভিত্তিক কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এসব কমিটির কার্যকাল বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।  কমিটির সদস্যগণ কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্যপদ প্রাপ্ত হবেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ও কর্মপন্থা সম্পর্কে যথাক্রমে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ও কেন্দ্রীয় পরিষদে ব্যাখ্যা প্রদানে বাধ্য থাকবেন।

১৫. উপপরিষদঃ

কার্যনির্বাহী পরিষদ তার ঘোষিত নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড বা অনুষ্ঠান পরিচালনার উদ্দেশ্যে এসোসিয়েশনের নিয়মিত সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে সময় সময় বিভিন্ন উপপরিষদ গঠন করতে পারবেন। উপপরিষদসমূহ কার্যনির্বাহী পরিষদকে তাদের যাবতিয় কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা প্রদানে বাধ্য থাকবেন এবং তাদের কার্যকাল নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পাদন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।

১৬. নির্বাচনঃ

১৬.১ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন প্রতি ২ (দুই) বছর পরপর অনুষ্ঠিত হবে।

১৬.২ কেন্দ্রীয় পরিষদ কর্তৃক এই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদ-এর মাধ্যমে গঠিত নির্বাচন কমিশন দ্বারা পরিচালিত হবে। নির্বাচন কমিশনে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুইজন সদস্যসহ মোট ৩ (তিন) জন থাকবেন।

১৬.৩ নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ ঘোষিত হবার ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে পূর্বতন পরিষদকে নতুন নির্বাচিত পরিষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। নতুবা পরবর্তী দিবস হতে আপনা-আপনি দায়িত্বভার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।

১৬.৪ নির্বাচনে অপপ্রচার, কুৎসা ও দেশের স্বার্থবিরোধী কোন কাজ করা যাবে না।

১৬.৫ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও কর্তব্য:

নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের যথাযথ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনার জন্য দায়ী থাকবেন। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা প্রকাশ, নমিনেশন পেপার ও প্রত্যাহার পত্র ইস্যু করা, নমিনেশন আহ্বান, নমিনেশন ও প্রার্থীপদ প্রত্যাহারপত্র সমূহ বাছাই করা, নির্বাচন পদপ্রার্থীদের নাম প্রকাশ, ব্যালট পেপার ইস্যু এবং ভোট সমূহ চূড়ান্ত গণনার পর নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করবেন।

১৬.৬ ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তির জন্য আবেদনপত্র দাখিলের সর্বশেষ তারিখ হবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার অন্ততঃ ৩০ (তিরিশ) দিন পর অথবা নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী।

১৬.৭ শাখাসমূহ ১৬.৬ বর্ণিত সর্বশেষ তারিখের ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে সদস্য তালিকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করবেন। এর পরবর্তীতে আর কেউ এ নির্বাচনের জন্য ভোটার হিসেবে গণ্য হবেন না।

১৬.৮ নির্বাচন কমিশন ১৬.৬ বর্ণিত সর্বশেষ তারিখের ১ (এক) মাসের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবেন, অথবা নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী খসড়া ভোটার তালিকায় সংশোধনী থাকলে তা নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করতে হবে।

১৬.৯ নির্বাচন কমিশন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তফসিল অনুযায়ী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবেন। একজন সদস্য একটি পদে একটি মাত্র ভোট প্রদান করবেন, প্রতিনিধির মাধ্যমে ভোট প্রদান করা যাবেনা।

১৬.১০ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখের অন্ততঃ ২০ (বিশ) দিন আগে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তা ও সদস্যপদের জন্য মুদ্রিত এবং অনলাইন নমিনেশনপত্র আহ্বান করবেন এবং প্রতিটি সদস্যের জন্য নমিনেশন পেপার ও প্রত্যাহার পত্রের মুদ্রিত বা অনলাইন নমুনা ইস্যু করবেন। এ নমুনা এসোসিয়েশনের নোটিশ বোর্ডে এবং ওয়েবসাইটে প্রদত্ত হবে।

১৬.১১ নির্বাচনের অন্ততঃপক্ষে ১৫ (পনেরো) দিন আগে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্বশরীরে, কোন প্রতিনিধির মাধ্যমে অথবা অনলাইনের মাধ্যমে নমুনা অনুযায়ী যথাযথভাবে পূরণ করে বিভিন্ন পদের জন্য নমিনেশন পেপার পেশ করতে হবে। প্রার্থীপদের জন্যে আবেদন বা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে অনলাইন প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

১৬.১২ প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের সর্বশেষ তারিখ হবে নমিনেশন পেপার প্রদানের সর্বশেষ তারিখের ০৩ (তিন) দিন পর এবং নির্বাচন প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে এবং ওয়েবসাইটে নির্বাচনের তারিখের কমপক্ষে ১১ (এগারো) দিন আগে প্রকাশ করতে হবে।

১৬.১৩ নির্বাচন কেন্দ্র: ফরিদপুর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণ, কোন উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্কুলে সম্ভবপর না হলে নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দী পক্ষ সমূহের সংগে আলোচনা সাপেক্ষে বিকল্প ভোট কেন্দ্র নির্ধারণ করবেন।

১৬.১৪ নির্বাচন তারিখে কেন্দ্রীয়ভাবে ফরিদপুর জিলা স্কুলে এবং প্রতিটি শাখায় এসোসিয়েশনের বৈধ ভোটারদের গোপন ব্যালট পদ্ধতিতে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

১৬.১৫ প্রতিটি শাখা এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একজন প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ করবেন এবং তার নাম নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচন তারিখের অন্ততঃ ৩০ (তিরিশ) দিন আগে পাঠাবেন। এ সকল প্রিসাইডিং অফিসার নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি বলে গণ্য হবেন এবং তারা কেবল নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়ী থাকবেন। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রিসাইডিং অফিসার প্রয়োজনবোধে সর্বোচ্চ ০২ (দুই) জন সহকারী গ্রহণ করতে পারবেন।

১৬.১৬ যদি কোন শাখার কার্যকরী পরিষদ প্রিসাইডিং অফিসারের নাম নির্বাচন তারিখের ১৫ (পনেরো) দিন আগে পাঠাতে ব্যার্থ হয় তাহলে নির্বাচন কমিশন একজন প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ করবেন।

১৬.১৭ প্রিসাইডিং অফিসার ব্যালট সমূহের গণনার জন্য দায়ী থাকবেন। ভোট সমূহ গোনার পর তিনি অবিলম্বে শাখার ফলাফল নির্বাচন কমিশনের নিকট ই-মেইল/ব্যক্তিগতভাবে কিংবা রেজিষ্টার্ড পোষ্টে নির্বাচন চিঠি মারফত জানাবেন। তিনি গননা করা ও অব্যবহৃত ব্যালট পেপার সমূহ যথাযথভাবে সিল করা খামে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবেন এবং নির্বাচন কমিশন এগুলো পরবর্তী নির্বাচন ঘোষনা পর্যন্ত সংরক্ষণ করবেন।

১৬.১৮ প্রার্থীগণ কিংবা তাদের নির্ধারিত প্রতিনিধিগণ ভোট কেন্দ্র এবং গননার সময় উপস্থিত থাকতে পারবেন।

১৬.১৯ শাখা সমূহের প্রিসাইডিং অফিসারের যথাযথ স্বাক্ষরের পর নির্বাচন তারিখের ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে শাখায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌছাতে হবে। এ নির্ধারিত সময়ের পর প্রাপ্ত ফলাফল হিসেবে আনা হবে না।

১৬.২০ নির্বাচন কমিশন শাখা সমূহ হতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত নির্বাচনের ফলাফল সমূহ জমা করবেন, সর্বমোট নির্বাচন ফলাফল সমূহ গননা করবেন এবং নির্বাচিত ব্যক্তিদের নাম ঘোষনা করবেন।

১৬.২১ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর কোন নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধ উত্থাপিত হলে তা গঠনতন্ত্রের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৬ ধারা অনুযায়ী ট্রাইবুনালের উপর ন্যস্ত করা যাবে।

১৭. সভাপতি ও মহাসচিব প্রার্থীদের যোগ্যতাঃ

এসোসিয়েশনের প্রথম তিনটি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদসমুহ ব্যাতিরেকে পরবর্তী পরিষদসমুহের সভাপতি ও মহাসচিব পদপ্রার্থী ব্যক্তিগণকে নমিনেশনপত্র দাখিলের সময় ধারাবাহিকভাবে এসোসিয়েশনের কমপক্ষে ০৫ (পাঁচ) বছরের সদস্য পদ থাকতে হবে। প্রথম তিনটি কার্যনির্বাহী পরিষদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণই এই দুটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগপ্রাপ্ত হবেন।

১৮. অন্যান্য কর্মকর্তা প্রার্থীদের যোগ্যতাঃ

এসোসিয়েশনের প্রথম তিনটি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের পরবর্তী পরিষদসমুহের   অন্যান্য কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য এবং শাখা কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্য পদে নমিনেশনপত্র দাখিলের সময় ধারাবাহিকভাবে কমপক্ষে ০৩ (তিন) বছরের সদস্যপদ থাকতে হবে। প্রথম তিনটি কার্যনির্বাহী পরিষদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণই এসব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগপ্রাপ্ত হবেন।

১৯. অডিটর নিয়োগঃ

এসোসিয়েশনের আয়োজিত কার্যক্রম ও অনুষ্ঠানসমূহ এবং এর প্রকাশনাসমূহের হিসেব-নিকেশের অডিট করার জন্য বার্ষিক সাধারণ সভার সময় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরিষদের সভায় অডিটর ফার্ম নিযুক্ত হবে এবং কেন্দ্রীয় পরিষদ ও সাধারণ পরিষদে এ নিযুক্তি অনুমোদিত হবে। দায়িত্ব ও কর্তব্য হবে –

১৯.১ সাধারণ সভা কিংবা কেন্দ্রীয় পরিষদ অথবা সভাপতির ইচ্ছাক্রমে যে কোন সময় হিসেবসমূহ অডিট করবেন এবং এর যথার্থতা সম্পর্কে সত্যায়ন করবেন।

১৯.২ হিসেবসমূহ যথারীতি রক্ষার জন্য পরামর্শ প্রদান করবেন।

২০. সম্মানী আইন পরামর্শদাতাঃ

সম্মানী আইন পরামর্শদাতা বার্ষিক সাধারণ সভার সময় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরিষদের সভায় নির্বাচিত হবেন।

২১. ব্যাচের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং শাখার কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনঃ

২১.১ এসোসিয়েশনের শাখার কার্যকরী পরিষদের এবং ব্যাচ প্রতিনিধিদের নির্বাচন সাধারণভাবে প্রতি ০২ (দুই) বছর পরপর শাখার সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে গোপন ব্যালট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে।

২১.২ ব্যাচের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং শাখার কার্যকরী পরিষদ সমূহের নির্বাচন এসোসিয়েশনের বর্ষের প্রথম ০৩ (তিন) মাসের মধ্যে কিংবা কেন্দ্রীয় নির্বাচনের সময় হলে ভালো হয়।

২১.৩ ব্যাচের প্রতিনিধিবৃন্দ তাদের ব্যাচের নিজস্ব ব্যাবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মাধ্যমে কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অংশগ্রহণে প্রত্যক্ষ বা অনলাইন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।

২১.৪ প্রতিটি স্থানীয় শাখায় শাখা কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট শাখার কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক মনোনীত একটি “নির্বাচন কমিশন” দ্বারা পরিচালিত হবে। নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে ১ জন আহবায়ক ও ২ জন সদস্য দ্বারা। শাখার কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনের তারিখ অন্ততঃপক্ষে ৩০ (তিরিশ) দিন আগে ঘোষণা করতে হবে।

২১.৪.১ ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সর্বশেষ তারিখ নির্বাচনের তারিখ ঘোষনার পাশাপাশি অন্ততঃপক্ষে ১৫ (পনেরো) দিন আগে ঘোষিত হবে।

২১.৪.২ নির্বাচন কমিটি নির্বাচনের অন্ততঃ ১৫ (পনেরো) দিন আগে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবেন এবং ভোটার তালিকায় কোন ত্রুটি সংশোধনের আবেদন তালিকা প্রকাশের ৩ (তিন) দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিটিকে জানাতে হবে।

২১.৪.৩ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ৩.১ উপধারা অনুযায়ী শাখা কার্যকরী পরিষদের বিভিন্ন পদের জন্য নির্ধারিত ফর্মে নির্বাচনের অন্ততঃপক্ষে ১০ (দশ) দিনের পূর্বে মুদ্রিত বা/এবং অনলাইন নমিনেশন পেপার আহ্বান করা হবে।

২১.৪.৪ নির্বাচন কমিটি নমিনেশন পেপার ও প্রত্যাহারপত্রের নির্ধারিত ফর্ম শাখার সদস্যদের জন্য ইস্যু করবেন এবং ফর্মসমূহ শাখার নোটিশ বোর্ডে এবং ওয়েবসাইটে প্রদান করবেন। এরপর নমিনেশন পেপারসমূহ যাচাই করবেন এবং নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করবেন।

২১.৪.৫ নির্বাচন কমিশন নমিনেশন পেপার গ্রহণের সর্বশেষ তারিখের ০৩ (তিন) দিনের মধ্যে প্রার্থীদের কাছে থেকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারপত্র নির্ধারিত ফর্মে গ্রহণ করবেন।

২১.৪.৬ নির্বাচন কমিটি প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচনের ০৭ (সাত) দিন আগে প্রকাশ করবেন।

২১.৪.৭ প্রার্থীগণ নিজে কিংবা তাদের নির্ধারিত প্রতিনিধিগণ ভোট কেন্দ্রে ও গণনাস্থলে উপস্থিত থাকতে পারবেন।

২১.৪.৮ নির্বাচন কমিটি নির্বাচন পরিচালনা, ব্যালট পেপার গণনা, নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবেন এবং এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচনের ফলাফল জানাবেন।

২১.৪.৯ নির্বাচন সম্পর্কে কোন বিরোধ নির্বাচনের পর দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৬ নং ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী ট্রাইব্যূনালের বরাবর পেশ করা যাবে।

 

সমাপ্ত